সেচে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ২৩:১২

আসছে সেচ মৌসুম। তার সাথে আসন্ন গরমকালও। এই দুই কারণে বিদ্যুতের অতিরিক্ত ব্যবহার বাড়বে। এ বছর সেচ মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৩ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তেল, গ্যাস, কয়লা, পানি ও নবায়নযোগ্য- সব ধরণের জ্বালানি থেকে উত্পাদিত বিদ্যুত্ দিয়ে এ চাহিদা পূরণ করা হবে। গ্যাসভিত্তিক যে বিদ্যুত্ উত্পাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে তার জন্য দৈনিক অন্তত ১৪০ কোটি ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু বিদ্যমান অবস্থায় এ পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা প্রায় অসম্ভব। সেক্ষেত্রে গ্যাসের রেশনিংসহ বিকল্প উপায় খোঁজা হচ্ছে।

প্রতি বছরের  ফেব্রুয়ারি হতে মে পর্যন্ত সেচ মৌসুম থাকে।  গত বছরের সেচ মৌসুমে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ দৈনিক চাহিদা ছিল ১১ হাজার মেগাওয়াট। বিভিন্ন স্থানে লোডশেডিং করে সেচের চাহিদা মেটাতে হয় সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে। বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়ায় লোড ব্যবস্থাপনায় হিমশিম খান সংশ্লিষ্টরা। এমন প্রেক্ষাপটে এ বছরের সেচ মৌসুমে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ নিশ্চিতকরণের বিষয়ে গত ৬ জানুয়ারি বিদ্যুত্ বিভাগের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যুত্ সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বলা হয়, গত সেচ মৌসুমে গ্যাসের চাহিদা ছিল ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। কিন্তু পেট্রোবাংলা থেকে পাওয়া যায় সর্বোচ্চ ৯২ কোটি ঘনফুট গ্যাস। এ বছরের চাহিদা ১৪০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। অন্তত ১ হাজার ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া না গেলে সেচের জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুত্ সরবরাহ ব্যাহত হবে। এমন অবস্থায় জ্বাালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং পেট্রোবাংলাকে সেচ মৌসুমে অন্তত ১৩৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে বিদ্যুত্ বিভাগ।

এ প্রসঙ্গে পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যমান সক্ষমতায় সেচের জন্য চাহিদা মত গ্যাস সরবরাহ সম্ভব নয়। তবে রেশনিংসহ নানা উপায়ে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে পার্থক্য কমিয়ে আনা হবে। সিরাজগঞ্জ কেন্দে র গ্যাসের চাপ অপেক্ষাকৃত বেশি। তাই ঢাকা শহরে গ্যাসের ঘাটতি না করে সিরাজগঞ্জ বিদ্যুেকন্দে  গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হবে। সেচে পানির সাশ্রয়ী ব্যবহারের লক্ষ্যে ‘ওয়েট অ্যান্ড ড্রাই’ পদ্ধতি জনপ্রিয় করতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হবে। তেলচালিত সেচগুলোকেও সর্বোচ্চ উত্পাদনক্ষম করতে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। রাত ১১টা থেকে সকাল সাতটার বাইরে যেন সেচ পাম্প না চালানো হয় সেজন্য বিদ্যুত্ বিতরণ সংস্থাগুলো মাঠ পর্যায়ে প্রচারণা চালাবে।

পিডিবি জানায়, এবার অনুমোদিত চার লাখ ১৬ হাজার ২৩১টি বিদ্যুত্চালিত সেচ পাম্পের জন্য দৈনিক দুই হাজার ৪০৭ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ লাগবে। সভায় পিডিবির প্রতিনিধি জানান, এবারের সেচ মৌসুমে ১৩৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস না পেলে অসুবিধা হবে। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) চেয়ারম্যান মঈন উদ্দীন জানান, বিদ্যুতের নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে পল্লী বিদ্যুত্সমিতিগুলোতে পর্যাপ্ত  ট্রান্সফরমার মজুদ করা হয়েছে। পিডিবি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ বলেন, তাদের তেলচালিত বিদ্যুেকন্দ গুলোতে দুই মাসের জ্বালানি মজুদ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে পিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, পেট্রোবাংলা কোনো বছরই তাদের চাহিদা অনুসারে গ্যাস দিতে পারেনি। তারাও লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে বিদ্যুত্ উত্পাদন করতে পারেননি। এবার চাহিদা আরও বেড়েছে। কতটুকু বেশি গ্যাস পাওয়া যাবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা বলেন, দেশে চাহিদার তুলনায় গ্যাসের উত্পাদন কম। তাই চাহিদা অনুসারে গ্যাস দেওয়া সম্ভব হয় না। সেচ ও গ্রীষ্ম মৌসুমে সার কারখানা বন্ধ করে এবং অন্য খাতে সরবরাহ কমিয়ে বিদ্যুতের জন্য বেশি গ্যাস দেওয়া হয়। এবার এলএনজি এসেছে। ফলে গতবারের চেয়ে বেশি গ্যাস পাবে পিডিবি। তবে চাহিদার পুরোটা দেওয়া সম্ভব হবে কি-না তা এখনই বলা যাচ্ছে না। এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ।