মুন্সীগঞ্জের মেঘনা নদীতে শুক্রবার ডুবে যাওয়া মাটি বোঝাই ট্রলার ও নিখোঁজ শ্রমিকদের খোঁজে তৃতীয় দিনের মতো উদ্ধার কাজ চলছে। উদ্ধার কাজে নৌ-বাহিনীর আট সদস্যের ডুবুরি দল, ফায়ার সার্ভিসের আট ডুবুরি ও বিআইডব্লিউটিএর তিন জন ডুবুরি কাজ করছে। উদ্ধারকারী জাহাজ ‘প্রত্যয়’ উদ্ধার তত্পরতা শুরু করেছে। সাইড স্ক্যান সোনারে শব্দ তরঙ্গের মাধ্যমে ট্রলারের সন্ধান চলছে।
গত সোমবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে মেঘনা নদীতে মাটি বোঝাই ট্রলার ডুবিতে ২০ শ্রমিক নিখোঁজ হন। ট্রলার ডুবির পর ১৪ শ্রমিক সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। নিখোঁজ শ্রমিকদের মধ্যে ১৭ জনের বাড়ি পাবনার ভাঙ্গুরিয়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নে। দুর্ঘটনার ২৯ ঘণ্টা পর শুরু হওয়া উদ্ধার কার্যক্রমের তৃতীয় দিনেও নিখোঁজ শ্রমিকের সন্ধান মেলেনি।
এদিকে মুন্সীগঞ্জের মেঘনায় ট্রলার ডুবির ঘটনায় মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোবাশ্বেরুল ইসলামকে প্রধান করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। ট্রলার ডুবির ঘটনার চার দিনেও কোনো মামলা হয়নি। মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার আশফাকুজ্জামান বলেন, মামলার প্রস্তুতি নেওয়া আছে। তবে এখনও ট্রলারটি শনাক্ত না হওয়ায় মামলা করা সম্ভব হয়নি।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মো. মোস্তফা মহসিন জানান, তৃতীয় দিনের মত মেঘনার তলদেশের প্রায় ৬০ ফুট পানির নিচে ট্রলারের সন্ধান চলছে। ট্রলারের বেঁচে যাওয়া শ্রমিক শাহ আলম দুর্ঘটনার স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, যেন নতুন জীবন পেয়েছি। সঙ্গী শ্রমিক ভাইদের হারিয়ে খুব কষ্টে আছি।
এদিকে দুর্ঘটনার চার দিন পরও নিখোঁজদের সন্ধান না পাওয়ায় তাদের পরিবারের লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করছে। পরিবারের কাছের মানুষটিকে হারিয়ে আর্তনাদ করছেন নিখোঁজদের স্বজনরা। অনেক স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শান্ত একটা নদী সেখানে এত অভিজ্ঞ লোকজন, এতসব উদ্ধার যান, বিশাল আকারের উদ্ধারকারী জাহাজ থাকা সত্ত্বেও একটি ট্রলারই উদ্ধার করতে পারছেন না তারা।
