খালেদা জিয়ার মুক্তি আইনি লড়াই, না প্যারোলে!

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ২৩:১৮

দুটি দুর্নীতির মামলায় প্রায় এক বছর ধরে কারাভোগ করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে বেশকিছু মামলার বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কয়েকটি মামলায় এখনো মেলেনি জামিন। এ অবস্থায় তার কারা মুক্তির লক্ষ্যে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আইনজীবীরা। আইনি লড়াইয়ে ব্যর্থ হলে বিকল্প হিসেবে প্যারোলে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি তাদের চিন্তা-ভাবনায় রয়েছে। একাধিক আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে এমনটি আভাস মিলেছে।

আইনজীবীরা বলছেন, আইনি লড়াই চালিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। যেসব মামলায় জামিন হয়নি সেসব মামলায় জামিন প্রাপ্তির বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করে আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর। আদালতে জামিন পেলে মিলবে কারামুক্তি। জামিন না মিললে কারাবাস হবে দীর্ঘায়িত। সেক্ষেত্রে তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় রেখে প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি হবে আইনজীবীদের দ্বিতীয় পছন্দ।

এ প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার এম মাহবুবউদ্দিন খোকন ইত্তেফাককে বলেন, সংসদ নির্বাচনের কারণে আইনজীবীরা নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করছিল। এখন তাদের সকলেই ঢাকায়। খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করতে আগামী সপ্তাহ থেকে পুরোদমে আইনি লড়াইয়ে আমরা নামব। এ ক্ষেত্রে কৌশল কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা প্রকাশ করা ঠিক হবে না।

প্রসঙ্গত সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব   হোসেন গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়াকে বের করা কঠিন হবে। সেই কারণে তার চিকিত্সার জন্যে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু তার ওই পরামর্শ গ্রহণ করা হয়নি বরং বিরূপ মন্তব্য হয়েছে। তবে গত নভেম্বর মাসে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, যে মামলায় খালেদা জিয়া দণ্ডিত হয়েছেন সেই মামলায় জামিন দেওয়ার বিষয়টি উচ্চ আদালতের এখতিয়ার। এটা একটা আইনি যুদ্ধ। তবে বিএনপি নেতৃত্ব চাইলে প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বলতে পারেন।

আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় কারাবন্দির সাময়িক মুক্তির বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। ওই ধারা অনুযায়ী সরকারের ক্ষমতা আছে কিছু শর্তসাপেক্ষে বন্দিকে সাময়িক মুক্তি দেওয়ার। আসামির নিকটাত্মীয় কেউ মারা গেলে বা চিকিত্সার জন্য সাধারণত সরকার এ সুবিধা দিয়ে থাকেন।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় তিনি ১৭ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত। নিম্ন আদালতে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি, গ্যাটকো ও নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি চলছে। বেশকিছু মামলার কার্যক্রম উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত রয়েছে। সংসদ নির্বাচনের পর নাইকো মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানিতে ঢাকার পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত বিশেষ আদালতে দুইদিন হাজির করা হয় খালেদা জিয়াকে। হাজিরাকালে আইনজীবীদের সঙ্গে একান্ত আলোচনায় তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার সর্বশেষ অবস্থা জানতে চান তিনি। এ সময় কুমিল্লায় নাশকতার ঘটনার একটি মামলায় জামিন আবেদন নিম্ন আদালতে দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন থাকায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ওই জামিন আবেদন দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নিতে আইনজীবীদের বলা হয়। এ প্রসঙ্গে বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, কুমিল্লার মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি চার বার পেছানো হয়েছে। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে উনাকে জেলে আবদ্ধ রাখতে এটা একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। তবে আমরা আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছি।