সোনারগাঁওয়ে আওয়ামী লীগ নেতার দু’পা ভেঙে দিয়েছে মাদক ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ২৩:১৮

সোনারগাঁওয়ের পিরোজপুর ইউনিয়নের মঙ্গলেরগাঁও গ্রামে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় আওয়ামী লীগ নেতাকে পিটিয়ে দু’পা ভেঙে দিয়েছে মাদক ব্যবসায়ীরা। গতকাল শুক্রবার সকালে মঙ্গলেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনের ওপর হামলা করে তার দু’পা ভেঙে দেয় তারা। রুহুলকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের কোববানপুর গ্রামের রাসেল দীর্ঘদিন ধরে ২০-২৫ জনের একটি সিন্ডিকেট করে মঙ্গলেরগাঁও, দুধঘাটা, পাঁচানি, শান্তিনগর এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। গত এক মাস আগে শান্তিনগর এলাকায় রাসেল ও তার সহযোগী আব্দুর রহিম আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে লুত্ফুরকে মাদকাসক্ত করার চেষ্টা করে। এতে রুহুল আমিন তাকে এ বিষয়ে শাসায়। এর জের ধরে আব্দুর রহিম একা পেয়ে লুত্ফরকে পিটিয়ে আহত করে। এ ঘটনায় এলাকায় বিচার দাবি করেন রুহুল আমিন। এতে রাসেল ও তার সহযোগীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রাসেলের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল     শান্তিনগর এলাকায় তাকে পিটিয়ে আহত করে। পরবর্তীতে গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে দ্বিতীয় দফায় রাসেলের নেতৃত্বে পুলিশের তালিকাভুক্ত ভাড়াটে সন্ত্রাসী গিট্টু হূদয়, কমল, সোলায়মান, আব্দুর রহিম, নূরুদ্দিন, ইমরানসহ অর্ধশতাধিক হকিস্টিক, লোহার রড, লাঠিসোঁটা নিয়ে রুহুল আমিনকে পিস্তল ঠেকিয়ে হামলা করে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে তার দু’পা ভেঙে দেয়। আওয়ামী লীগ নেতার ভাই নাজির আহম্মেদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে পিরোজপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন গ্রামে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মাদক ব্যবসায়ী গিট্টু হূদয়ের প্রভাব খাটিয়ে কোরবানপুর গ্রামের রাসেল মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে বাধা দেওয়ায় বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সকালে পিস্তল ঠেকিয়ে আমার ভাইকে হকিস্টিক ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে দু’পা ভেঙে দিয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সন্ত্রাসী গিট্টুর আত্মীয় হওয়ার কারণে রাসেল তার প্রভাবে এলাকায় অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। গত বছরও মাজহারুল ইসলাম নামে এক যুবককে পিটিয়ে হাত পা ভেঙে দিয়েছে রাসেল বাহিনী। রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মাদকের সঙ্গে তিনি জড়িত না। পূর্ব শত্রুতার কারণে তার এক বন্ধুকে পিটিয়ে আহত করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের লোকজন এ হামলা চালিয়েছে। সোনারগাঁও থানার ওসি মোরশেদ আলম জানান, এখনও কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।