নোয়াখালীর জজ আদালতে বিচারাধীন একটি দুর্নীতির মামলার নথি তলব করেছে হাইকোর্ট। এছাড়া মামলাটি ঢাকায় কেন স্থানান্তর করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত। একইসঙ্গে মামলার যাবতীয় কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ডিভিশন বেঞ্চ রবিবার এই আদেশ দেন।
আদেশের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান দুদক কৌসুলি খুরশীদ আলম খান। তিনি বলেন, এই মামলার দুজন আসামি জেলা জজ আদালতের নাজির ও তার স্ত্রী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পেশকার। এদের বিচার নোয়াখালী আদালতে হলে আমরা ন্যায় বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা করছি। এ কারণে মামলা স্থানান্তরের জন্য আবেদন করা হয়েছে। মামলাটি অভিযোগ গঠন পর্যায়ে রয়েছে।
আরো পড়ুন : বিএনপি এখন মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তির মুখপাত্র : ওবায়দুল কাদের
অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট নোয়াখালী জেলা জজ আদালতের নাজির আলমগীর হোসেনসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। এর মধ্যে নাজমুন নাহার ওই আসামির স্ত্রী এবং আফরোজা আক্তার তার বোন। অপর আসামির নাম বিজন ভৌমিক।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত মোট ৭ কোটি ১৭ লাখ ৩৫ হাজার ৬২৫ টাকার সম্পত্তি অর্জন করেন। অর্জনকৃত ওই সম্পদ ভোগদখল রেখে প্রতারণামূলকভাবে মানি লন্ডারিং-সম্পৃক্ত অপরাধ, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের উৎস গোপনের লক্ষ্যে হেবা দলিল সম্পাদন, দলিলে জাল জালিয়াতি এবং বেনামে সম্পদ অর্জন এবং ভুয়া প্রতিষ্ঠান মেসার্স ঐশী ট্রেডার্সের ব্যবসার আড়ালে মোট ২৭ কোটি ৮২ লাখ ৭২ হাজার ৯৬৬ টাকা অবৈধভাবে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করেছেন।
এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় বিশেষ জজের আদালত থেকে দুটি মামলা প্রত্যাহারের প্রশ্নে রুল জারি করে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে মামলার নথিও তলব করা হয়।
ইত্তেফাক/ইউবি
