সাভারে গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ২৩:১৯

সাভারের আশুলিয়ায় তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিককে গণধর্ষণ করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি রিপন মিয়ার (৩২) গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে সাভারের খাগান এলাকার আশুলিয়া মডেল টাউনের ভিতরের একটি খালি জমি থেকে সাভার থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।

লাশের সুরতহাল রিপোর্ট পর্যালোচনা করে সাভার থানার ওসি আব্দুল আউয়াল বলেন, নিহতের কানের এক পাশে গুলির চিহ্ন রয়েছে। গলায় একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। সেখানে লেখা ছিল, ‘আমি ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি। গত ৫ জানুয়ারি আশুলিয়ার গার্মেন্টস শ্রমিক নাজমাকে ধর্ষণ করে হত্যা করেছি।’ নিহত রিপন ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ থানার আব্দুল লতিফের ছেলে। তিনি আশুলিয়ার ইয়াগি বাংলাদেশ নামে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় লাইনচিফ হিসেবে চাকরি করতেন। নাজমা ওই কারখানার শ্রমিক ছিলেন।  এ দিকে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সাভার থানায়   নিহতের স্ত্রীর বড় ভাই আব্দুস সালাম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গত ১৫ জানুয়ারি আশুলিয়ার কুরগাঁওয়ের হামিদের ভাড়া বাসা থেকে অজ্ঞাত ৪/৫ জন ব্যক্তি রিপনকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার বিকালে পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারেন যে আশুলিয়া মডেল টাউনের ভিতরে একটি ফাঁকা প্লটে রিপনের লাশ পড়ে আছে।

আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাবেদ মাসুদ জানান, গত ৫ জানুয়ারি আশুলিয়ার বেরন এলাকার ইয়াগি বাংলাদেশ কারখানার শ্রমিক নাজমা রাতে কাজ শেষে বাসায় ফিরছিল। এ সময় কয়েক জন যুবক তার গতিরোধ করে জোরপূর্বক পার্শ্ববর্তী একটি মাঠে নিয়ে দলবেঁধে ধর্ষণ করে। এরপর ৭ জানুয়ারি চিকিত্সাধীন অবস্থায় নাজমার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নাজমার বাবা ওই কারখানার লাইনচিফ রিপন মিয়া, কর্মচারী আবদুর রহিম, ক্যান্টিন মালিক শিপন ও ইব্রাহিমের নাম উল্লেখ করে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ রহিমকে গ্রেফতার করলেও মামলা দায়ের পর থেকে প্রধান আসামি রিপন ও অন্যরা পলাতক ছিল।

সাভার থানার ওসি আব্দুল আউয়াল বলেন, নিহতের গলা থেকে উদ্ধার করা চিরকুট অনুযায়ী আশুলিয়া থানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে, নিহত ব্যক্তি গার্মেন্টস শ্রমিক নাজমাকে গণধর্ষণ করে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার এক নম্বর আসামি। তাকে কারা হত্যা করেছে, সে বিষয়টি তদন্তাধীন। নিহতের আত্মীয় আব্দুল সালাম বলেন, অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা রিপনকে পরিকল্পিতভাবে জোর করে ডেকে নিয়ে হত্যার পর লাশ ফেলে দিয়েছে।