ভুয়া পাসপোর্ট ব্যবহারের জন্য সৌদি আরবে আটক রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি সরকার। কিন্তু সৌদি বন্দিশিবিরে আটক থাকা রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে ফিরতে রাজি নন। তারা সৌদি সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অনশন ধর্মঘট শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই’র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জেদ্দায় শুমাইসি শিবিরে থাকা রোহিঙ্গারা গণমাধ্যমটিকে জানিয়েছে যে, বাংলাদেশে যাওয়া ঠেকাতে অনশন করা ছাড়া আর কোনো উপায় তারা দেখছেন না। তারা বাংলাদেশে বিতাড়ন ঠেকাতে জাতিসংঘকে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ৮ জানুয়ারি ১৩ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব। যদিও সেখানকার বন্দিরা বলছে এখন পর্যন্ত ৬০ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, বন্দি রোহিঙ্গারা কোনো খাবার গ্রহণ করছে না। সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে বন্দিরা সংগঠিত হয়ে এই অনশন ধর্মঘট শুরু করেছে। এক বন্দি জানান, প্রথমদিকে তিনশো জন এই অনশনে যোগ দিয়েছিল। আস্তে আস্তে সেই সংখ্যা বাড়ছে। অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়ায় একজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গত চার মাসে এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো অনশন শুরু করছে সেখানকার রোহিঙ্গারা। এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য আসেনি।
গত নভেম্বরে মিডল ইস্ট আই’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কোনও অভিযোগ ছাড়াই সৌদি আরবে বেশ কয়েক বছর ধরে আটক রাখা হয়েছে কয়েক শ’ রোহিঙ্গা পুরুষ, নারী ও শিশুকে। এদের বেশির ভাগ ২০১১ সালের পর মিয়ানমারের নিপীড়ন এড়াতে ও জীবিকার তাগিদে ভুয়া পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি আরব যায়। এখন সৌদি তাদের জোর করে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে।
