বহুগুণে অনন্য শমী

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:২২

এক জন মানুষ একসঙ্গে এত কাজ করতে পারে, এত ভালো কিছুর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে তা আসলে শমীকে না দেখলে বোঝা যাবে না। জীবনের প্রতিটি বাঁকে বাঁকে ছড়িয়ে যাচ্ছেন দারুণ সব কর্মকাণ্ড, শমী হাসান চৌধুরী দেশেই বড় হয়েছেন, ও লেভেলের পর চলে যান আমেরিকায়, সেখানে হাইস্কুল ডিপ্লোমা শেষ করেন। পুত্রা বিশ্ববিদ্যালয়, মালয়েশিয়া থেকে অর্থনীতিতে সম্পন্ন করেন স্নাতক। পড়াশোনা করা অবস্থায়ই তিনি জড়িয়েছেন নানাবিধ কাজের সঙ্গে। বর্তমানে তিনি কাজ করছেন এওয়ারনেস ৩৬০-এর কো-চেয়ার হিসেবে, এই সংগঠনের কো-ফাউন্ডার তিনি। বর্তমানে তাদের ফেসবুক লাইভ ও অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চলছে। তবে বাংলাদেশে তারা ওয়াটার, স্যানিটেশন, হাইজিন (ওয়াশ) নিয়ে কাজ করে থাকেন। মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন, হাত ধোয়া, স্যানিটেশন সচেতনতা, স্বাস্থ্য ভালো রাখা নিয়ে কাজ করেন। বস্তিতে থাকা মানুষ, যৌনকর্মী কিংবা যেসব মানুষের কাছে সাধারণত কেউ যেতে চায় না তাদের আচার, ব্যবহার, সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করেন তারা। এছাড়াও জাতিসংঘের এসডিজি নিয়ে বিশ্বের ২৩টি দেশে কাজ করছেন তারা।

তিনি ২০১৯ সালে প্রিন্সেস ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড জেতেন, একই বছর তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ডায়ানা লিগাসি অ্যাওয়ার্ড জেতেন। পুরস্কার গ্রহণ করেন প্রিন্সেস ডায়ানার ভাই লর্ড স্পেন্সার থেকে। কেনসিংটন প্যালেসে প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে দেখা করার আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন। ২০২০ সালে তিনি ডায়ানা অ্যাওয়ার্ডের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ব্রিটিশ অভিনেতা কেল স্পেলম্যানের সঙ্গে কো-হোস্ট করেন ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান।

তিনি কমনওয়েলথ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের এশিয়া প্রতিনিধি, রয়েল কমনওয়েলথ সোসাইটির এক জন ফেলো, এছাড়াও কমনওয়েলথ ইয়ুথ ফোরামে তিনি পলিসি লেভেলে কাজ করছেন। আমন্ত্রণ পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের রানি এলিজাবেথের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে। ২০১৮ সালে কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের হয়ে পাকিস্তানে যান আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে।

তিনি গ্লোবাল চেইঞ্জমেকারের এক জন ফেলো এবং মেন্টর। হাল্ট প্রাইজ ফাউন্ডেশনের গ্লোবাল এক্সিলারেটরে এক্সপার্ট বা গুরু হিসেবে কাজ করছেন শমী। তিনি মিশিগানের শেবয়গান ম্যাগাজিনে বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করেছেন। তিনি আইএমএফ ও ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের বিভিন্ন রিপোর্ট লিখেছেন। সম্প্রতি তিনি ইউএনডিপি-স্যামসাং গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন যা এশিয়া প্যাসিফিকে তিনিই প্রথম। চলতি পথে অনেকের সহযোগিতা পেয়েছেন। বিশেষ করে বাবা, বোন, তার এক জন শিক্ষক প্রফেসর ড. আমের, মেন্টর ইসাম তার মধ্যে অন্যতম। তিনি আরো উল্লেখ করেন তার কো-ফাউন্ডার রিজভী আরেফিন এবং এওয়ারনেস ৩৬০ সদস্যদের কথা। এত কিছু করেন তবুও তিনি সব কিছু খুব সুন্দর করে ব্যবস্থাপনা করেন, সময় ব্যবস্থাপনায় তার গুণের কথা অনস্বীকার্য।

কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ও সামাজিক কর্মে তার ১৩ বছরেরও বেশি অবদান। তিনি স্বীকৃতি পেয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা থেকে। নিউ ইয়ার্ক সেন্ট্রাল পার্কে ৬০ হাজার দর্শকের সামনে বক্তৃতা দিয়েছেন। গ্লোবাল সিটিজেন ফেস্টিভাল কো-হোস্ট করেছেন হিউ জ্যাকম্যান, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া এবং অন্যান্য হলিউড তারকার সঙ্গে। তিনি ওয়াটার, স্যানিটেশন, হাইজিন (ওয়াশ) নিয়ে আরো কাজ করতে চান, উচ্চতর শিক্ষা নিতে চান। নিজেকে পলিসি লেভেলে দেখতে চান এবং মানুষের সেবা করে যেতে চান।