জাল মৃত্যুসনদ দাখিল, জামিন নিয়ে মাদক মামলার তিন আসামি লাপাত্তা

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ২৩:২১

বেঁচে আছেন, অথচ আদালতে দাখিল করা হয়েছে জাল মৃত্যুসনদ। আর এই জাল সনদবলে মাদক মামলার তিন আসামি পেয়েছেন জামিন। জামিনে কারামুক্তির পর তারা এখন পলাতক। বিষয়টি জানতে পেরে আসামিদের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। একইসঙ্গে ঘটনাটি তদন্ত করে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থানার ওসিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে জেলা ও দায়রা জজ আদালত।  

সূত্র জানায়, জামিনপ্রাপ্তরা হলেন পাঁচবিবি উপজেলার কুয়াতপুর গ্রামের ইব্রাহিম হোসেন (৩০), পাঁচবিবি পৌরসভার বালিঘাটা বাজারের আমির হোসেন ওরফে সোহেল (২৬) এবং বাগজানা ইউনিয়নের কয়া গ্রামের আতোয়ার হোসেন (৩৫)। এদের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মাদক মামলা রয়েছে।

আদালত সুত্রে জানা গেছে, জামিন নেওয়ার সময় আদালতে দাখিল করা কাগজপত্রে আসামি ইব্রাহিম হোসেনের জীবিত বোন আনোয়ারা বেগম, আসামি আমির হোসেনের জীবিত স্ত্রী ইয়াসমিন এবং আসামি আতোয়ার হোসেনের জীবিত পিতা নাজির উদ্দিনকে মৃত দেখানো হয়েছে। প্রমাণ হিসেবে পাঁচবিবি পৌরসভা, বাগজানা ও কুসুম্বা ইউনিয়ন পরিষদের দেওয়া মৃত্যু সনদ দাখিল করা হয়। তবে পাঁচবিবি পৌরসভা, বাগজানা ও কুসুম্বা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে  মৃত্যু সনদগুলো মিথ্যা, জাল ও ভুয়া দাবি করে মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর কাছে প্রত্যয়নপত্র পাঠানো হয়েছে যেখানে মৃত ওই ব্যক্তিরা জীবিত আছেন বলে উল্লেখ রয়েছে।

ইয়াবা আটকের ঘটনায় তিন আসামি ইব্রাহিম হোসেন, আমীর হোসেন ও আতোয়ারকে গত নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে জেলহাজতে পাঠানো হয়। পরবর্তীকালে জাল মৃত্যুসনদ দাখিল করে তারা আদালত থেকে জামিন নেন। ৮ জানুয়ারি পরবর্তী ধার্য তারিখে হাজির না হওয়ায় জেলা জজ আদালতের বিচারক মমতাজ পারভিন জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং মৃত্যুর বিষয়ে পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বজলার রহমান ১৪ জানুয়ারি আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। যেখানে আসামি আতোয়ারের বাবা নাজির উদ্দিনের ছবিসহ জানানো হয় তিনি জীবিত আছেন।    

আসামি আতোয়ার হোসেনের বাবা নাজির উদ্দিন বলেন,‘ছেলে হাজতে থাকার পর আইনজীবী নাজমুল ইসলাম জনি ও তার মুহুরির কাছে জামিনের জন্য যাই। তারা আমার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নেন। ছেলের জামিনের পর জানতে পারছি আমাকে মৃত দেখিয়ে ছেলের জামিন নেওয়া হয়েছে। এখন বাড়িতে পুলিশ আসছে। আমরা এ ব্যপারে কিছু জানিনা।

আসামি আমীর হোসেন সোহেলের মা আমেনা বেগম বলেন,‘আমীরের জামিনের বিষয়ে কিছুই জানিনা। আমরা আইনজীবীকে কোন কাগজপত্রও দেইনি। পরে শুনছি বউমা ইয়াছমিনকে মৃত দেখিয়ে আমীরের জামিন করা হয়েছে। আমরা কিছুই জানিনা।’

পাঁচবিবি পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন,‘বালিঘাটা বাজারের আসামি আমীর হোসেন সোহেলের স্ত্রী ইয়াছমিনকে মৃত দেখিয়ে আমার পরিষদ থেকে একটি মিথ্যা ও জাল মৃত্যুর সনদপত্র আদালতে দেখানো হয়েছে। বিষয়টি জানার পর আমি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছি ওই মৃত্যুর সনদ আমার পরিষদ থেকে ইস্যু করা হয়নি। আসামির স্ত্রী ইয়াছমিন বেঁচে আছেন বলে জানান তিনি।

বাগজানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হক বলেন,‘আসামি আতোয়ার হোসেনের বাবা নাজির উদ্দিন বেঁচে আছেন। তাঁকে মৃত দেখিয়ে আমার পরিষদের জাল সনদপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে। আমি আইনজীবী সমিতিকে বিষয়টি জানিয়েছি।

মামলার আইনজীবী নাজমুল ইসলাম জনি তিনটি মামলায় জামিন শুনানীতে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা সরল বিশ্বাসে মক্কেলের দেওয়া তথ্য উপাত্ত আদালতে উপস্থাপন করে থাকি। ওই কাগজ যাচাই করার সুযোগ থাকে না।

পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বজলার রহমান বলেন,‘মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে জামিন নেওয়া তিনটি মামলার বিষয়ে আদালত থেকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ পেয়ে ইতোমধ্যে দুটির প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। মৃত দেখানো ব্যক্তিরা সবাই জীবিত আছেন। অন্যটির কাজ চলছে।’