বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই-কমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেছেন, মিয়ান-মারে স্ব স্ব বাস্তুভিটা থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গা সমস্যার ব্যাপারে বাংলাদেশ ও ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি অভিন্ন। এসব বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদেরকে তাদের স্ব স্ব বাস্তুভিটায় প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ যেভাবে দেখছে ঠিক সেভাবেই ভারতও চায় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন হতে হবে নিরাপদ, দ্রুত ও স্থায়ী। মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশকে যে সমস্যা মোকাবিলা করতে হচ্ছে, ভারতও মনে করে একই সমস্যা তাদেরও। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদি বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের ব্যাপারে ভারতের অবস্থান ইতিমধ্যে পরিষ্কার করেছেন।
গতকাল রবিবার বিকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে আয়োজিত চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ভারতের হাইকমিশনার ওপরের কথাগুলো বলেন। তিনি আরো বলেন, ভারতের সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের যে বিষয়টি বলা হচ্ছে তার অবসান হওয়া দরকার। হাইকমিশনার চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে দৈনিক ইত্তেফাকের গৌরবময় ভূমিকা ছিল। ইত্তেফাককে আমি স্যালুট জানাই। ইত্তেফাক নামের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনী ইত্তেফাক অফিসের অনেক ক্ষতি করেছিল।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কাল থেকেই ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে এক অটুট বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজমান রয়েছে। চট্টগ্রাম হচ্ছে সংস্কৃতি, বাণিজ্য ও ঐতিহ্যের সোনালি ভূমি। এই চট্টগ্রাম থেকেই বাংলাদেশের মানুষের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের মানুষের স্বাধিকারের ডাক দিয়েছিলেন।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য দেন চট্টগ্রামে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিন্দ্য ব্যানার্জি, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাস, সিনিয়র সহসভাপতি সালাহউদ্দিন মো. রেজা, সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ। এদিকে ভারতীয় হাইকমিশনার গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালকমণ্ডলী, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। সেখানে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম হবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসহ এ অঞ্চলের প্রবেশদ্বার। বাংলাদেশ বৃহত্তর অর্থনীতি হিসেবে উদিত হচ্ছে। এ অঞ্চল ২৫০ কোটি মানুষের বাজার, চট্টগ্রাম যেখানে প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাণিজ্য, সামুদ্রিক ও উত্পাদন খাত চট্টগ্রামে অগ্রগণ্য।
