ইত্তেফাক-এর কথা মনে হলে ছেলেবেলার কথা মনে হয়। যখন স্কুুলে, ক্লাস এইট নাইনে পড়ি, ৭৮ কি ৭৯ সাল। এমন একটা সময় দৈনিক ইত্তেফাকের সাথে পরিচয় ও যাতায়াত। মূলত কচি কাঁচার আসর, ছোটদের এই পাতাই প্রধান আকর্ষণ। এক পৃষ্ঠা-কখনো আরো ছোট হয়ে যেত বিজ্ঞাপন ও খবরের ভিড়ে। এতেই আনন্দের শেষ নেই! কত যে সুন্দর সুন্দর ছড়া, গল্প ও লেখা বের হতো। খালেদ হুসাইন এর লেখা ছড়াটা যেমন— ‘আমার পুশি লক্ষী পুশি যেন তুলোর দলা, দুধের মতো ধলা। তুষার ধবল বললে হবে শুদ্ধ করে বলা’। ডাকে লেখা পাঠানোই রেওয়াজ- লেখা পাঠিয়ে ‘ডাক পিয়নের ঝুলি’তে উত্তরের জন্য প্রতি সপ্তাহের অপেক্ষা। কোনো কোনো সংখ্যায় এই ‘ডাক পিয়নের ঝুলি’ থাকতোও না। তর না সইলে আরো খোঁজ নেয়ার জন্য ভয়ে ভয়ে-১, আর কে মিশন রোড। ইত্তেফাকে রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই-এর দপ্তরে। তাঁকে কখনো পেতাম কখনো না, টেবিলের উপর সব কাগজপত্র ও খামের স্তুপ। এত লেখা তিনি পড়েন কখন! কিন্তু কোথায় কোন খামে কার লেখা আছে সবই মুখস্ত তাঁর- সেটা বুঝতে পেরেছি আরো পরে। সেই কৈশোরে-স্বরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত ও অক্ষরবৃত্ততো দুরস্ত! নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তির ‘ছন্দের বারান্দা’র খোঁজ পাইনি, পাওয়ার কথাও না। সংশোধন করে চার লাইনের একটা ছড়া ছেপেও ছিলেন দাদাভাই। সেভেন/এইটে পড়ুয়া কিশোরের জন্য এটা অশেষ আনন্দের তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লেখালেখি আর হয়ে উঠেনি যদিও। আরো পরে ২০০১ সালে নিত্য উপহার টি-শার্ট করা শুরু করেছে, আবারো দৈনিক ইত্তেফাক এর কড়চা’র নিত্য নতুন ফিচারে উঠে এসেছে দিনের পর দিন দেশীয় টি-শার্টের নতুন নতুন রূপ। ‘সময় বহিয়া যায়’— চিরাচরিত নিয়মেই বয়ে যাবে আরো অনেক সময়, নিয়ে যাবে যুগ থেকে যুগান্তরে। আমাদের দেশে শতবর্ষী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা খুবই নগন্য। বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরানো খবরের কাগজের মধ্যে অন্যতম দৈনিক ইত্তেফাক। আমাদের কৈশোরের, তারুণ্যের এবং আজকের দৈনিক ইত্তেফাক নিশ্চয়ই একদিন শতবর্ষ পূর্ণ করে হান্ড্রেড ইয়ার্স ক্লাবে উজ্জ্বল আলো ছড়াবে।
বাহার রহমান
ফ্যাশন ডিজাইনার ও সত্ত্বাধিকারী, নিত্য উপহার
