আরফিন শরিয়ত
মাত্র উনিশ বছর বয়সে দেশের ৬৪ জেলায় ভ্রমণ করেছে রিফাত জাহান শাওন। ১৯ বছর ৯ মাস ২৩ দিন বয়সী এই যুবক সবচেয়ে কম বয়সী ট্রাভেলার হিসেবে নিজেকে দাবি করেন। তার এ পুরো যাত্রায় সময় লেগেছে ১ বছর ১১ মাস। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ভ্রমণের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। বিজয়ের ৪৯ বছরে পদার্পণকে নিজের বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেন শাওন। তার এ যাত্রায় সঙ্গী হিসেবে ছিলেন বন্ধু সোয়েব আহাম্মেদ সাজিব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের এ শিক্ষার্থী জানান, ‘প্রকৃতির প্রতি ভালবাসা থেকেই আমার ভ্রমণের সূচনা।’ ২০১৯ সালের জানুয়ারি নেত্রকোণার বিরিশিরি ভ্রমণের মাধ্যমে শুরু হয় শাওনের যাত্রা। এরপর ধারাবাহিকভাবে প্রায় ৪৮টি জেলা ঘুরে শেষ করেন তিনি। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির জন্য মার্চের ২ তারিখ ভ্রমণ থেকে অব্যাহতি নেন তিনি। পরবর্তী সময়ে লকডাউন শেষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাকি জেলাগুলো মোটরসাইকেল যোগে অন্য জেলাগুলো ভ্রমণ করেন। ছয় হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে গত ১২ ডিসেম্বর ৬৪ জেলার ভ্রমণ শেষ করেন তিনি।
নিজের ভ্রমণের বিষয়ে লিখিত বক্তব্যে শাওন বলেন, ‘যাত্রাপথে বহুগুণ ভারী হয়েছে অভিজ্ঞতার ভাণ্ডারও। পরিশ্রম, মেধা আর তীব্র মনোবল নিয়েই ঘুরে বেড়িয়েছি প্রত্যেকটি অঞ্চলের স্থানীয় মানুষের সঙ্গে। দেখেছি তাদের জীবনযাত্রা, জানার চেষ্টা করেছি তাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ সহ ভাষা ও খাদ্যাভাস নিয়ে। আমার কাছে মনে হয়, পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি বাস্তব জীবনের অর্জিত জ্ঞান খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি বলেন, ‘হাজার বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্যে ভরপুর এই সমৃদ্ধ বাংলাকে জানতে হলে ভ্রমণের বিকল্প নেই। প্রযুক্তির এই যুগে আমরা যেন ঘর থেকে বাইরে বের হই না। কিন্তু সময় এখন মুক্ত বিহঙ্গের মতো ছুটে চলার। বাঙালি জাতি হিসেবে যদি নিজের দেশ ও জাতিসত্ত্বা সম্পর্কে না জানি তবে বাংলার এ হাজার বছরের ইতিহাস একদিন বিলীন হয়ে যাবে—যেভাবে বাংলার বুক থেকে হারিয়ে যাচ্ছে শত শত নদী; যেভাবে হারিয়ে যাচ্ছে বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি।’
নিজের আগ্রহের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি ভ্রমণ করতে ভালোবাসি, বিশ্বের প্রতিটি দেশ ভ্রমণ করতে চাই এবং নিজ দেশের পর্যটন শিল্প নিয়েও কাজ করতে চাই। তাই সর্বপ্রথম নিজের মাতৃভূমির প্রতিটি জেলা বিচরণ করে বিশ্বভ্রমণের জন্য আমি নিজেকে প্রস্তুত করেছি।
