মো. আশরাফুল ইসলাম সুমন
স্কুলজীবন শুরু করেন বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যায়ন দিয়ে শুরু সৈয়দা নাজিয়া এশার। এরপর সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে বর্তমানে পড়াশোনা করছেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এ। এশার শিক্ষার্থীর পাশাপাশি আরও একটি পরিচয় হলো— তিনি নারী উদ্যোক্তা। বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা খুবই কম। এর বড় কারণ সামাজিক ও পারিবারিক দিক থেকে বিভিন্ন প্রতিকূলতা। বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক অবস্থায় এখনো নারী উদ্যোক্তাবান্ধব হয়ে ওঠেনি। অবশ্য নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে অনেকে নারী উদ্যোক্তা হয়েছেন। আর এমন সফল নারীদের মধ্যে এশা একজন। এশা বলেন, ‘ছোটোবেলা থেকেই আমার ডিজাইনিং ও পেইন্টিং অনেক পছন্দ। ক্লাস থ্রি থেকে স্কুলের চারুকারু ও ড্রইং সাবজেক্টের জন্যে ভর্তি হই এক আর্ট ক্লাসে। সেখান থেকেই আমার হাতেখড়ি। শখ তো ছিলই বটে, তবে প্রফেশনাল কোর্সটা শুরু হয় আমার নৃত্য ছন্দমে। নৃত্য ছন্দমের ফারুক স্যারের কাছ থেকেই সব শেখা। একদম ছোট বেলায় আম্মু আমাকে রং পেন্সিল , পেপার এসব দিয়ে বসিয়ে রাখতেন। তখন কতকিছু যে মনের মাধুরী মিশিয়ে এঁকেছি তার ঠিক নেই। সেগুলো অনেকদিন রাখা ছিল যত্নে। ৫ বছর টানা শিখেছিলাম আর্ট। করোনার সময়ে যখন অবসর সময় কাটছিল না তখন ভাবলাম—বাসায় বসে কিছু একটা করা যায়। সেই থেকে শুরু হয় ‘দি অরা আক্সেসরিস’ ফেসবুক পেজের। আমি প্রথমে কাজ শুরু করি হাতে তৈরি গহনা বানিয়ে। কাঠ দিয়ে গহনা আজকাল অনেক দেখা যায়, তাই আমি চেয়েছি একটু ভিন্নতা আনতে। আমি নিজেও প্রথমে কাঠ দিয়ে শুরু করলেও পরে শুধু ফেব্রিক অর্থাত্ কাপড়, তারপর লেস ফিতা, দড়ি, পুঁতি, চুমকি ইত্যাদি দিয়ে করার চেষ্টা করেছি।’
তিনি বলেন, ‘শিগগিরই স্ক্র্যাপবুক, ফটো এ্যালবাম, পেপার ক্রাফটিংয়ের কিছু পণ্য তৈরির কার্যক্রম শুরু করব। আমার এই পথচলায় আমার সঙ্গী হিসেবে আছেন আমার মা ও আমার মেজো বোন। তাদের সাহায্য ছাড়া কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। পরিবার থেকে সব রকম সাপোর্ট পেয়েছি। যা আমার কাজের জন্যে বড় অনুপ্রেরণা। আমি চেষ্টা করছি ভালো সার্ভিসের মাধ্যমে গ্রাহকের সন্তুষ্টি অর্জনের। আমার ভবিষ্যত পরিকল্পনা ব্যবসাটাকে বড় করে কিছু মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করা।’
