জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, এলাকার উন্নয়নে সবাই যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তবে স্থানীয় বাসিন্দারা সুখে-স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করতে পারে। সংঘাত, মতানৈক্য, রাজনৈতিক হানাহানি, পরস্পরের সঙ্গে বিরোধ—এসব অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় আমাদের বর্জন করা উচিত। এখন মান-সম্মানসম্পন্ন ব্যক্তিরা রাজনীতির প্রতি আগ্রহ দেখান না। সবাইকে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে এবং সম্মানিত ব্যক্তিদের রাজনীতি সম্পর্কে আগ্রহী হতে হবে। তিনি গতকাল বুধবার রাতে ভাণ্ডারিয়ায় এক ক্রীড়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি গতকাল রাতে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া পৌর শহরের পূর্ব ভাণ্ডারিয়া মাঠে চাঁন মিয়া ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নাইট শর্ট ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে আরো বলেন, ‘বিগত ৩৬ বছর ধরে আমি ভাণ্ডারিয়াসহ দক্ষিণাঞ্চলে মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে লাগাতারভাবে সচেষ্ট রয়েছি। এই দীর্ঘ সময় এলাকায় যথাসাধ্য কাজ করার প্রয়াস চালিয়েছি। কাজের ক্ষেত্রে আমাদের সন্তুষ্টি পর্যায়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ সময় মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণসহ শিক্ষা-সংস্কৃতি-ক্রীড়া ক্ষেত্রে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। ভাণ্ডারিয়ায় শহর ও গ্রাম পর্যায়ে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ না থাকলেও কিশোর-তরুণদের মধ্যে ক্রীড়া স্পৃহা লক্ষণীয়। এই ধারা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।’ তিনি বলেন, যাদের বয়স ৩০ বছরের নিচে, তারা উপলব্ধি করতে পারে না তাদের জন্মের আগে ভাণ্ডারিয়ায় অবকাঠামোগত ক্ষেত্রে কতটা পশ্চাত্পদতা ছিল; এখানকার মানুষের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান, স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন ও আনুগত্য, সেই সব দিনের পিছিয়ে থাকা অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়া কেমন ছিল। আজ কিশোর-যুবারা রাতেও ক্রিকেট খেলে, যা ভাণ্ডারিয়ার সার্বিক উন্নয়নেরই পরিচায়ক। সরকারিভাবে ও সামাজিক উদ্যোগেও খেলাধুলার পৃষ্ঠপোষকতা বাঞ্ছনীয়।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেন, অন্যান্য এলাকার চেয়ে ভাণ্ডারিয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক উন্নত। ব্যক্তি পর্যায়ে, পরিবারে পরিবারে জমিজমা, অর্থ ইত্যাদি নিয়ে মতবিরোধ, দ্বন্দ্ব-সংঘাত একেবারেই যে এখানে কদাচিত্ ঘটে না তা নয়, এসব বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে বা থানা পুলিশের মাধ্যমে আপস নিষ্পত্তি হয়ে থাকে। তবে এসব বিবাদ আদালতে মীমাংসা হওয়াই শ্রেয় এবং তাতে স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান হয়।
এই ক্রীড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপির আহ্বায়ক মনিরুল হক মনি জোমাদ্দার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেপির উপজেলা সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহিবুল হোসেন মাহিম, যুগ্ম আহ্বায়ক ও পৌর কাউন্সিলর গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, জেপির সদস্যসচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, থানার ওসি এস এম মাকসুদুর রহমান, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর দৌহিত্র রাইয়ান হোসেন আহমেদ, ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, জেপি নেতা হায়দার আলী, সফিকুল আলম খোকন, উপজেলা যুব সংহতির সদস্যসচিব মামুনুর রশীদ সরদার, ছাত্রসমাজের উপজেলা আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন রাহাত জোমাদ্দার প্রমুখ। ক্রীড়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা যুব সংহতির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য রেজাউল হক রেজভী জোমাদ্দার। ক্রিকেট ফাইনাল প্রতিযোগিতায় তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া পাঠাগার একাদশ এবং ভাণ্ডারিয়া বাজার আদর্শ একাদশ ক্লাব অংশগ্রহণ করে। এ প্রতিযোগিতা গত ৪ ডিসেম্বর শুরু হয়ে গতকাল বুধবার শেষ হয়।
ভাণ্ডারিয়ায় দুস্থ কল্যাণ সংস্থার কম্বল বিতরণ
গতকাল বুধবার ভাণ্ডারিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সুবিধাবঞ্চিত অসচ্ছল পরিবারের মধ্যে দুস্থ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করা হয়। এসব বিতরণকালে সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা, জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি উপস্থিত ছিলেন। বিকালে তেলিখালী ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে ইউনিয়নের শীতার্ত মানুষের মধ্যে দুস্থ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে কম্বল বিতরণ করা হয়। বিতরণকাজে অংশ নেন উপজেলা জেপির সদস্যসচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহিবুল হোসেন মাহিম, পিরোজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুল আলম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা প্রমুখ।
সকালে নদমূলা বাজারসংলগ্ন সাইক্লোন শেল্টারে নদমূলা-শিয়ালকাঠি ইউনিয়নের শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়। এই বিতরণকাজে অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল কবির তালুকদার বাবুল। এরপর ইকড়ি ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে উক্ত ইউনিয়নের অসচ্ছল পরিবারের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়। এ কাজে অংশ নেন ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির। দুপুরে ধাওয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে দুস্থ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে অসচ্ছল পরিবারের মধ্যে কম্বল বিতরণে অংশ নেন ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু। দুস্থ কল্যাণ সংস্থার পক্ষে এ ত্রাণকাজ সমন্বয় করেন আতিকুজ্জামান খোকন, কাজী আতাহার হোসেন, মো. কবির হোসেন প্রমুখ।
সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গতকাল বুধবার বিকালে নদমূলা ইউনিয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইসগেট ও বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় ‘উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্প, সিইআইপি-১, ফেইজ-১’-এর প্যাকেজ-২-এর পোল্ডার, ৩৯/২-সি প্রকল্পের আওতায় এই বেড়িবাঁধ নির্মাণাধীন, যার ব্যয় বরাদ্দ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। নদমূলা ইউনিয়নের হেতালিয়া অংশের এই নির্মাণকাজ পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবে মাওলা মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, সিইআইপি প্রকল্পের উপজেলা মো. সাদেকুল ইসলাম প্রমুখ।
