পুরো গরমের সিজন যায়, এক ফোঁটা ঘুমাতে পারি না। কেন ঘুমাতে পারি না জানিস? তোর ভাবি প্রচণ্ড নাক ডাকে। কিন্তু গরমের সিজনটা পার হয়ে শীতের সিজন আসতেই শান্তি আর শান্তি।
g ইকবাল খন্দকার
‘খুশিতে’, ‘ঠেলায়’ আমরা অনেক কিছুই করে ফেলি। তবে সিজন আগপিছ করে ফেলব, অত ক্ষমতা কিন্তু নেই। মানে যে সিজন যখন আসার কথা, তখনই আসবে। এখানে সিরিয়াল ব্রেক কিংবা ব্যক্তিগত খুশি বা ঠেলাঠেলির কোনো ব্যাপার নেই। শীত যদি আপনার ‘ভাল্লাগে’, তবু যখন আসার তখনই আসবে, যদি না ‘ভাল্লাগে’, তবু যখন আসার তখনই আসবে। তবে সব কথার শেষ কথা হচ্ছে, শীত তার শিডিউল অনুযায়ীই এসেছে এবং সারাদেশে একযোগে বিচরণ করছে। আর এখন প্রশ্ন হচ্ছে শীত আপনার ভাল্লাগে কি না। এই প্রশ্নের জবাবে আমার এক বড়ভাই বললেন, ‘অবশ্যই শীত ভাল্লাগে।’ আমি বললাম, ‘ভালোলাগার কারণটা বলা যাবে কি? যদি বলা যায়, একটু কষ্ট করে বলে ফেলেন, প্লিজ।’ বড়ভাই বললেন, ‘পুরো গরমের সিজন যায়, এক ফোঁটা ঘুমাতে পারি না। কেন ঘুমাতে পারি না জানিস? তোর ভাবি প্রচণ্ড নাক ডাকে। কিন্তু গরমের সিজনটা পার হয়ে শীতের সিজন আসতেই শান্তি আর শান্তি। কেন শান্তি জানিস? কারণ, তার অভ্যাস কম্বল দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে ঘুমানো। ব্যস, যত জোরেই নাক ডাকাক, বীভত্স শব্দটা কিন্তু কম্বলের বাইরেও আসতে পারে না, আমার কানেও ঢুকতে পারে না।’
আমার এক ছোটভাই বলল, ‘আমার শীত ভালো লাগে বিশেষ একটা কারণে।’ আমি বললাম, ‘ভণিতা না করে কারণটা বলে ফেল।’ ছোটভাই বলল, ‘ছোটবেলা থেকেই আমার একটা জিনিস খুব প্রিয়। সেটা হচ্ছে ধোঁয়া ওঠা ভাপা পিঠা। গ্রামে থাকতে ধোঁয়া না উঠলে সেই পিঠা আমি খেতামই না। কিন্তু শহরে আসার পর যেটা হয়েছে, পাঁচতলার উপরে থাকি তো! কাউকে যদি নিচে পাঠাই ভাপা পিঠা আনার জন্য, সে নিচ থেকে পিঠা নিয়ে পাঁচতলায় আসতে আসতে ঠাণ্ডা হয়ে যায়। ধোঁয়া আর ওঠে না। এবার বলি শীতকাল কেন ভালো লাগে? ভাপা খাওয়ার সময় মুখটা একটু হাঁ করলেই চলে। তাতে যে পরিমাণ ধোঁয়া বের হয়, কী আর বলব। আমার কথা হচ্ছে, ধোঁয়া থাকলেই হলো। সেটা ভাপা পিঠার ধোঁয়া নাকি মুখ থেকে বের হওয়া ধোঁয়া, সেটা দেখার টাইম নেই। থাকা উচিত না। ঠিক বললাম কিনা?’
আমার এক প্রতিবেশী বললেন, ‘ছোটবেলায় যখন আমি কিছুই বুঝতাম না, তখনও শীত ভালোলাগত। আর এখন তো বুঝি। স্বাভাবিকভাবেই এখন আরও বেশি বেশি ভালো লাগে।’ আমি বললাম, ‘এতদিন ধরে একটা জিনিসের প্রতি ভালোলাগা, এটা কিন্তু চাট্টিখানি কথা নয়। কিন্তু এই ভালোলাগাটা কেন, একটু বলবেন কি?’ প্রতিবেশী বললেন, ‘শীতের প্রতি এই যে দুর্বার ভালোলাগা, এই ভালোলাগার একটাই কারণ। সেটা হচ্ছে, নখ। ছোটবেলা থেকেই আমার খাসলত এমন, নখ কাটতে সাংঘাতিক আলসেমি লাগে। দেখা যেত বাঘের নখের মতো বড় হয়ে যেত নখ। মানুষ এই নখ দেখে হাসাহাসি করত। আমার কী যে লজ্জা লাগত! তবু নখ কাটতাম না। তারপর যেই শীত আসত, আমি পেয়ে যেতাম শুভ মুক্তি। কারণ, শীত মানেই প্যান্টের পকেটে বা জ্যাকেটের পকেটে হাত। আর পকেটে হাত মানেই নখের অদৃশ্য হয়ে যাওয়া। মানে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যাওয়া। তবে সামান্য একটু সমস্যা যে হয় না, তা না। বড় বড় নখওয়ালা হাতগুলো পকেটে ঢোকানোর কারণে একটা প্যান্টেরও পকেট আস্ত নেই। সবগুলো ছিঁড়ে ফাতাফাতা। বিশ্বাস করবেন না, পকেটে কোনো কয়েনই রাখতে পারি না। কীয়েক্টাবস্থা!’
