g আব্দুল্লাহ আল মাছুম
শারাফত আলী গরিব কৃষক। নিজের কোনো জমি নেই। মহাজনের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করেন। বয়সে যুবক। বৈবাহিক স্ট্যাটাস ছ্যাঁকা খাওয়া, সিঙ্গেল। এক বছর পাড় হতে চলল। এখনো ছ্যাঁকার বিষাদ ভুলতে পারেনি। বর্ষপূর্তিতে চোখে সর্ষে ফুল দেখার মাত্রা আরও বেড়েছে। সর্ষে ফুল দেখতে দেখতে এবার খেতে সর্ষের বীজ বুনে দিল। ক্ষেত হলদে ফুলে ভরে উঠেছে। শারাফত তো মহাখুশি। বাম্পার ফলনের আশা। বাজারে সর্ষের দামও ভালো। এবার রাজকীয়ভাবে বিয়ে করে প্রাক্তনকে দেখিয়ে দিবে কী সোনা হারিয়েছে সে। কিন্তু ক্ষেতের সর্ষে ফুল আবারও চোখে। ছবি পাগল ফেসবুকিয়ানরা খেতে এসে ভিড় করতে লাগল। ক্ষেত মাড়িয়ে ছবি তুলেই তারা নিস্তার দেয় না। প্রকৃতির প্রতি আদর-ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ কিছু ফুল পকেটে করেও নিয়ে যায়। শারাফত বুদ্ধি করে ক্ষেতের আইলের পাশের ফুলে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দিল। প্রথম প্রথম কয়েকজন ঘায়েল হলেও পরিশেষে ফল হলো মারাত্মক। এবার প্রকৃতিপ্রেমীরা ক্ষেতের আরও ভিতরে প্রকৃতির সান্নিধ্যে ছুটল। শারাফত দ্বিতীয় অস্ত্র হিসেবে আগতদের গালাগাল করতে লাগল। শারাফতের কোকিল কণ্ঠী সুরের সৌভাগ্যে দর্শনার্থীরা নতুন বিনোদন পেয়ে গেল। এমনকি কেউ কেউ ইউটিউব চ্যানেলে সেই গালাগালের ভিডিও আপলোড করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিল। এতে শারাফতের ক্ষেতের সুখ্যাতি দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ল। শারাফত শতাব্দির মহাপ্রলয়ের সামনে দাঁড়িয়ে। তাকে তো বিয়ে করতে হবে। মাথায় রক্ত চড়ে গেল। আজ সরাসরি গণধোলাই হবে। গিয়ে থ’ হয়ে গেল। হাত থেকে বাঁশ পড়ে গেল। খেতের মাঝে বিদেশ ফেরত স্বামীর সঙ্গে তারই প্রাক্তন। চরম একটা লজ্জা পেয়েই বলল, ‘তুই?’
ভাঙা গলায় উত্তর আসল, ‘এ...ই মনে করেন ভাল্লাগে, খুশির ঠ্যালায়, ঘোরতে।’
জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
