মিজোরামে সন্ত্রাসী আস্তানা নিয়ে বিজিবির উদ্বেগ

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:২৯

বিজিবি মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম ভারতের মিজোরাম রাজ্যের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সশস্ত্র আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আস্তানার উপস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি আস্তানাগুলো ধ্বংস করার জন্য বিএসএফের মহাপরিচালক রাকেশ আস্থানার কাছে অনুরোধ করেছেন। ভারতের গৌহাটিতে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫১তম সীমান্ত সম্মেলনের যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে গতকাল শুক্রবার বিজিবি ডিজি এসব কথা বলেন। বিজিবি ডিজি সীমান্তে বাংলাদেশি নিরস্ত্র নাগরিকদের হত্যায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মানবাধিকারকে সমুন্নত রাখতে এবং অপরাধীদের হত্যার পরিবর্তে নিজ নিজ দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় আনার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এর আগে গত ২২ ডিসেম্বর বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলামের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল সীমান্ত সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের গৌহাটিতে যায়। সম্মেলনে বিএসএফ মহাপরিচালক রাকেশ আস্থানার নেতৃত্বে ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের আগে অনুষ্ঠিত ডিজি পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনে বিএসএফের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে তাদের দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের আস্তানার অভিযোগ করা হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পর্যায়ক্রমে সেসব আস্তানা গুঁড়িয়ে দেয়। বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের কয়েক জন শীর্ষ নেতাও গ্রেফতার হয়। তাদেরকে দুই দেশের চুক্তির আওতায় হস্তান্তর করে বাংলাদেশ। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বহুবার ভারতের কাছে তাদের দেশে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের আস্তানা থাকার অভিযোগ করা হলেও সেসব অভিযোগ আমলে নেয়নি ভারত।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলার ওপারে সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের অবস্থানের তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। ভারতের মিজোরাম রাজ্যে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামভিত্তিক দুটি দলের ১৪টি ক্যাম্প রয়েছে। তারা আরো পাঁচটি ক্যাম্প স্থাপনের চেষ্টা করছে। এসব বিষয় বিজিবি-বিএসএফ ডিজি পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনে বিজিবির পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা হয়। বিএসএফের কাছে মিজোরাম রাজ্যে বাংলাদেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের ক্যাম্পগুলোর একটি তালিকাও দেওয়া হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো বলা হয়, প্রচলিত আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে ভারতীয় নাগরিক এবং বিএসএফ সদস্যরা প্রায়শই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। এতে দুই দেশের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে বিজিবি ডিজি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি ইয়াবা পাচার, আগ্নেয়াস্ত্র চোরাচালান, গবাদি পশু, জাল মুদ্রা ও স্বর্ণ পাচার দমনের জন্যও বিএসএফের সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএসএফ ডিজি রাকেশ আস্থানা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারত সরকারের ‘জিরো টলারেন্স নীতি’র কথা উল্লেখ করে বলেন, ভারতে ঐ সব আস্তানার (যদি থাকে) বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সীমান্তে হত্যার ঘটনা অদূর ভবিষ্যতে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে বিএসএফ ডিজি আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি বলেন, সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাসমূহে রাত্রিকালীন যৌথ টহল পরিচালনার ব্যাপারে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।