মেধা বিকাশের অন্যতম প্ল্যাটফরম ইত্তেফাক

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯:৪৭

প্রতিদিন সকালে ঘুম ভাঙার পরে এক কাপ চা হাতে প্রথমেই দৃষ্টি নিমগ্ন হয় টেবিলে রাখা সংবাদপত্রের ওপর। চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে নিমিষেই জানা যায়, বাংলার আনাচে কানাচে ঘটে যাওয়া নিত্যদিনের খবরাখবর। সংবাদপত্রকে বলা হয়ে থাকে সদাজাগ্রত পাহারাদার। আর দেশের সেই প্রথম সারির পাহারাদারদের মধ্যে একটি হলো দৈনিক ইত্তেফাক। স্বাধিকার আন্দোলন থেকে বর্তমান পর্যন্ত যে কটি পত্রিকা গণমানুষের কথা বলে আসছে, সত্য-ন্যায় ও গণতন্ত্রের কথা বলে আসছে, মানুষের অধিকারের কথা বলে আসছে, তাদের মধ্যে অন্যতম হলো দৈনিক ইত্তেফাক। এছাড়া বর্তমান প্রজন্মের কাছেও জনপ্রিয় পত্রিকার নাম দৈনিক ইত্তেফাক।

তরুণদের মেধা বিকাশের অন্যতম প্ল্যাটফরম হিসেবে কাজ করছে দৈনিক ইত্তেফাক। কেননা তরুণদের মনের চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণা ডায়ারির পাতা কিংবা ফেসবুক ওয়াল থেকে বেড়িয়ে এসে জাতীয় পত্রিকায় স্থান পাচ্ছে। এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, দেশের অন্যান্য জাতীয় পত্রিকাগুলোর তুলনায় ইত্তেফাক তরুণদের বেশি মূল্যায়ন করে। অনেক সাংবাদিক ও কলামিস্ট তৈরিতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে দৈনিক ইত্তেফাক। তরুণদের লেখা গল্প, কবিতা, চিঠিপত্র, উপসম্পাদকীয় কলাম, মতামত যেখানে অন্যান্য পত্রিকায় স্থান পায় না, সেখানে দৈনিক ইত্তেফাক খুবই উদার। সপ্তাহে পাঁচ দিন দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ শিক্ষার্থীদের লেখা নিয়মিত প্রকাশ করে। আবার তরুণদের চিন্তা-চেতনা ও জ্ঞানের জগেক সম্প্রসারিত করতে ‘তরুণ প্রজন্মের ভাবনা’ নামে একটা নতুন পাতাও সংযোজন করেছেন। যার জন্য তরুণ প্রজন্ম প্রতিনিয়ত শিখছে এবং নিজেদের কলমকে শানিত করার সুযোগ পাচ্ছে। তরুণদের মধ্যে লেখালেখি নিয়ে রীতিমতো একটা প্রতিযোগিতা তৈরি হয়ে গেছে। যার অবদান ইত্তেফাক অবশ্যই পেতে পারে। তরুণ প্রজন্মের একজন হিসেবে আমি মনে করি, জনপ্রিয় এই পত্রিকাটি স্বমহিমায় নিজেদের ঐতিহ্যের ধারা পরবর্তী দিনগুলোতেও অক্ষুণ্ন রাখবে।

১৯৫৩ সাল থেকে হাঁটি হাঁটি পা পা করে ৬৭ পেরিয়ে আজ ৬৮ বছরে পদার্পণ করেছে ইত্তেফাক। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ইত্তেফাক শুধু মানুষের খবরের খোরাকই মেটায়নি। বাঙালির ভাষা, ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে রক্ষা করেছে পত্রিকার প্রতিটি পরতে পরতে। পরাধীনতার শিকলে আবদ্ধ থেকেও গণমানুষের দাবি-দাওয়া, অসহায় ও নির্যাতিতদের অকুণ্ঠ আর্তনাদ, বঞ্চিতদের অসহায়ত্ব তুলে ধরে সকলের মনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ৫৪র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন থেকে শুরু করে ৭১র স্বাধীনতার আন্দোলন পর্যন্ত বাঙালির প্রতিটি সংগ্রামে কলাম সৈনিক হয়ে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে লেখনীর মাধ্যমে সংগ্রাম করেছে পত্রিকাটি। ফলে বিভিন্ন সময়ে জালিমের রোষের মুখে স্তব্ধ হয়েছে এর কণ্ঠস্বর। ১৯৭১ সালের ইতিহাসের কলঙ্কিত অধ্যায় ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তান সেনারা   ইত্তেফাক অফিস পুড়িয়ে দেয়, বন্ধ হয়ে যায় প্রকাশনা। কিন্তু মানুষের ভালোবাসায় বারবার প্রবল প্রতাপে ফিরে এসেছে ইত্তেফাক। জনগণের কথা ভেবে আবারও ঘুরে দাঁড়ায় ইত্তেফাক। মে মাস  থেকে শুরু হয় প্রকাশনা। আবারও শুরু হয় তাদের কলামযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের পর নতুন বাস্তবতায় দৈনিক ইত্তেফাক নতুন আঙ্গিকে প্রকাশিত হয়। স্বাধীনতা-উত্তর চাওয়া পাওয়াকে গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ প্রচার করেছে দৈনিক ইত্তেফাক। সময়ের দাবি মেটাতে ইত্তেফাকের বিন্যাসে অনেক পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু সত্য, ন্যায়, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারের প্রশ্নে ইত্তেফাকের অবস্থান কখনো বদলায়নি।

বাংলাদেশের মাটি ও গণমানুষের মুখপাত্র দৈনিক ইত্তেফাক। মুক্তির প্রশ্নে, স্বাধীনতার প্রশ্নে, অস্তিত্ব বিলীনের ঝুঁকি অগ্রাহ্য করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে গেছে দৈনিক ইত্তেফাক। সেই কলমযুদ্ধের ধারা অক্ষত রেখে তরুণ প্রজন্মের কলমকে আরো বেশি শানিত করতে এখনো কাজ করে যাচ্ছে দৈনিক ইত্তেফাক। যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে ইত্তেফাক আত্মপ্রকাশ করেছিল তা আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। কিন্তু ইত্তেফাকের প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যায়নি। বরং দায়িত্ব ও কর্তব্য বেড়েছে বহুগুণ। যে বিজয় অর্জিত হয়েছে তা ধরে রাখার দায়িত্ব এখন ইত্তেফাকের। বাংলার গণমানুষ ও তরুণদের ভালোবাসায় সিক্ত দৈনিক ইত্তেফাক সত্য ও ন্যায়ের পথে সদা অকুতোভয় থেকে এগিয়ে চলুক আপন গতিতে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

লেখক : শিক্ষার্থী, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।