এখনও ইত্তেফাক ইত্তেফাকই

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯:৪৮

বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যে কটি পত্রিকা আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রেখে আসছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দৈনিক ইত্তেফাক। যে পত্রিকাটি গণমানুষের কথা বলে আসছে, সত্য-ন্যায় ও গণতন্ত্রের কথা বলে আসছে, মানুষের অধিকারের কথা বলে আসছে, সেটি হচ্ছে ইত্তেফাক। শুধু তাই নয়, বর্তমান তরুণ প্রজন্মের কাছেও জনপ্রিয়তার শীর্ষে এই ইত্তেফাক। বিশেষ করে পত্রিকাটি তরুণদের মেধা বিকাশে রাখছে বিরাট ভূমিকা।

দৈনিক ইত্তেফাক তরুণদের মনে জায়গা করে নিয়েছে তাদের মূল্যায়ন করে। কেননা, দেশের অন্য জাতীয় পত্রিকাগুলোর তুলনায় তরুণদের সবচেয়ে বেশি মূল্যায়ন করে ইত্তেফাক। তরুণদের চিন্তা-ভাবনার জগেক সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে তাদের মেধা বিকাশের জন্য ‘তরুণ প্রজন্মের ভাবনা’ নামক একটি পাতা সংযোজন করেছে পত্রিকাটি, যেখানে সপ্তাহে পাঁচ দিন বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লেখা প্রকাশ করছে নিয়মিত। একজন তরুণ কলাম লেখক হিসেবে আমি মনে করি, তরুণদের মেধা বিকাশে ইত্তেফাকের এমন ভূমিকা সত্যিই প্রশংসনীয়।

আজ দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। শহীদ সোহরাওয়ার্দীর উত্সাহ, অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতায় ১৯৫৩ সালের আজকের এই দিনে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া দৈনিক ইত্তেফাক প্রকাশ করেন। সূচনালগ্ন থেকেই দৈনিক ইত্তেফাক গণমানুষের মুখপাত্র হয়ে কাজ করছে এবং মহান স্বাধীনতা যুদ্ধেও তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া ও ইত্তেফাকের ভূমিকা ছিল অনন্য। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শুরু করে আজও দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছে দৈনিক ইত্তেফাক। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের কারণে পাঠকপ্রিয়তারও শীর্ষে দৈনিক ইত্তেফাক।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে ইত্তেফাক রেখেছে বিরাট ভূমিকা, যার জন্য অসংখ্য বাধার সম্মুখীন হয়েছে দৈনিক ইত্তেফাক এবং কারাবরণ করতে হয়েছে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াকে। সত্য প্রচারের ক্ষেত্রে আপসহীন এই পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ হয়েছে কয়েক বার; তবু মানুষের মুক্তির প্রশ্নে, স্বাধীনতার প্রশ্নে, মানুষের অধিকারের প্রশ্নে নিজ অস্তিত্ব বিলীনের ঝুঁকি অগ্রাহ করে নিরবচ্ছিন্নভাবে সমর্থন জুগিয়েছে সত্যের পক্ষে এবং আজও তা করে যাচ্ছে পত্রিকাটি।

কঠিন সময়কে জয় করে, কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে অসংখ্য চড়াই-উত্রাই শেষে ৬৮তম বছরে পা রাখা আজকের এই দিনে ইত্তেফাক পরিবারের প্রতি রইল অফুরন্ত ভালোবাসা ও শুভকামনা। বাংলাদেশের গণমানুষের এবং তরুণদের ভালোবাসায় সিক্ত দৈনিক ইত্তেফাক এগিয়ে যাক আপন গতিতে—এমনটিই কামনা।

 

লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।