একটি রাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি হলো সংবাদপত্র। আর বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবিরূপে দৈনন্দিন জীবনে অঙ্গাঙ্গিভাবে ভূমিকা রাখছে ইত্তেফাক। ১৯৫৩ সাল থেকে দৈনিক ইত্তেফাকের যাত্রা শুধু একটি সংবাদপত্র হিসেবে উত্থাপিত হয়নি; এটির জন্ম হয়েছিল মানুষের আওয়াজ কার্বনকালিতে পুথিভুক্ত করতে।
ইত্তেফাকের ৬৮ বছরের নিরলস প্রচেষ্টা, অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে কঠোর শব্দে প্রতিহত করার প্রতিজ্ঞা, নির্যাতন-বৈষম্যের দেওয়াল ভেঙে এক স্বাধীন, উজ্জ্বল রাষ্ট্র প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা, গণতন্ত্রের সমবণ্টনে নিঃস্বার্থভাবে জনগণের পক্ষে অটল থাকা, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে পরিগণিত হওয়া; সবই শ্রদ্ধেয় তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার স্বপ্নের ইত্তেফাককে পরিবর্ধিত করেছে। এই বিশাল যাত্রাকালে ইত্তেফাককে তুলে ধরা সেই মানুষগুলোকেও ঢের কাঠখড়ি পোড়াতে হয়েছে। সত্যের মাঠে ছান্দিকতা বজায় রাখতে মানিক মিয়াকে একাধিকবার কারাবন্দি করেছে। তার স্বপ্নের ইত্তেফাক অফিস ভাঙচুর করেছে, আগুনে পুড়েছে। এদেশে সমগ্র সংবাদমাধ্যমের প্রতিটি অঙ্গে মানিক মিয়ার আবহ মিশে আছে। জ্যেষ্ঠ-কনিষ্ঠ সকল বয়সি সাংবাদিকদের জন্য তিনি অনন্য দৃষ্টান্ত ও সর্বজনীন।
বঙ্গবন্ধু যেমনি সর্বসাধারণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে দেশে মাঠ-প্রান্তর চষে বেড়িয়েছেন, তেমনি মানিক মিয়ার ইত্তেফাকের সহস্রাধিক পাতায় কলম খচিত শব্দ উচ্চারিত হয়েছে কোটি কোটি জনতার মুখনিঃসৃত স্পন্দনে। পৌঁছেছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্ণকুহরে। যেখানে ছিল স্বাধীনতার ঘ্রাণ অনুভব করার মতো উন্মাদনা আর উদ্দীপনা। তার কলমনিঃসৃত প্রত্যেকটি শব্দের মিলন ফুটিয়ে তুলেছে অর্ধশতাধিক বছর আগের অধীনস্থ বাংলাদেশকে। যখন আজকের তরুণ প্রজন্মের ভ্রূণ মাতৃগর্ভে পরস্ফুিটিত হয়নি। তখন তিনি লড়ে গেছেন তরুণ প্রজন্মের জন্য। যে ঋণ পরবর্তী যে কোনো প্রজন্ম কখনো শোধ করতে পারবে না।
ইত্তেফাক আজও লড়ছে সত্যের পথে, অধিকার আদায়ের প্রত্যয়ে, জ্ঞান ছড়িয়ে, সাহসিকতার উদাহরণ হিসেবে, নির্ভীক সাংবাদিকতার দৃষ্টান্ত রেখে, বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে, কূটনৈতিক সম্ভাবনায় রাস্তা দেখাতে, সাহিত্যচর্চায়, লিঙ্গবৈষম্য কমাতে মহিলা অঙ্গন, শিশুর বিকাশে কচি-কাঁচার আসর, ধর্মান্ধতা কিংবা বিপথগামিতা ঠেকাতে ধর্মচিন্তা, রয়েছে বিনোদন থেকে খেলাধুলার মতো মানসিক প্রশান্তির উপকরণ, শ্রেণিগত কাঠামোবদ্ধ বিদ্যা অন্বেষণের প্রয়োজনে অনুশীলন, স্বতন্ত্রতা আনতে অর্থনীতি এবং বাণিজ্যভিত্তিক পরামর্শ লাভের সুযোগ। ইত্তেফাকের চৌকশ প্রতিনিধি এবং সম্পাদনা পর্ষদের পদক্ষেপ তরুণদের জন্য সবচেয়ে অনুকূলে।
পত্রিকাটির জন্মলগ্ন থেকে বস্তুনিষ্ঠ, স্বৈরাচারের বিরোধিতা, নিরন্তর সততা আর বৈষম্যহীন সংবাদ পরিবেশনার নজির যে কোনো নাগরিককে আকৃষ্ট করে। এর সুপরিকল্পিত ও সুবিন্যস্ত লিপিবদ্ধ কাঠামোই ইত্তেফাককে শিশু থেকে বৃদ্ধদের কাছেও জনপ্রিয়তার শীর্ষে দাঁড় করিয়েছে। একজন তরুণ হিসেবে সব সময় ইত্তেফাকের ধারা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানাই, পাশাপাশি জগতের অন্তিমকালেও ইত্তেফাকের আদলে মনুষ্য বিকাশের সুযোগ কামনা করি।
লেখক : শিক্ষার্থী, কৃষি অনুষদ, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান
ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর।
