আজিমপুর স্টাফ কোয়ার্টারে নারী আনসার কর্মকর্তার লাশ

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:২৯

রাজধানীর আজিমপুর স্টাফ কোয়ার্টারের একটি ফ্ল্যাটে এক আনসার কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তার নাম রুমানা ইয়াসমিন (৩৩)। তিনি ৩৭তম বিসিএসে আনসার ক্যাডারের কর্মকর্তা। গাজীপুরের শফিপুরে আনসার একাডেমিতে তিনি সহকারী পরিচালক হিসাবে কর্মরত ছিলেন। তিনি স্টাফ কোয়ার্টারের ৮ নম্বর ভবনের তিন তলার ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে সাবলেট থাকতেন।

শুক্রবার রাত ১০ টার দিকে কক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না দিয়ে প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখে পাশের কক্ষের একজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বাড়ি বগুড়ার কাহালুতে।

লালবাগ থানার ওসি কেএম আশরাফ উদ্দিন জানান, পারিবারিক মনোমালিন্য ও মানসিক হতাশা থেকে আনসার কর্মকর্তা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট থেকে। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে তার বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়নি। ইতিমধ্যে মৃতের ছোট বোন, চাচা ও ফুফাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, রুমানা পরিবারের বিভিন্ন বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করতেন।

পুলিশের আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, আনসারের চাকরি জীবন খুব একটা ভালো যাচ্ছিল না রুমানার। এ ঘটনায় লালবাগ থানায় রুমানার চাচা বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে অপমৃত্যু হিসাবে দেখছে। তবে ঘটনার বিভিন্ন পারিপার্শ্বিকতা এবং যে স্পট থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে তার চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে পুলিশ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে লালবাগ থানার ওসি আরো বলেন, স্টাফ কোয়ার্টারের ৮ নম্বর ভবনের ফ্ল্যাটে রুমানা একটি কক্ষে সাবলেট থাকতেন। ছুটিতে গাজীপুর থেকে ঢাকায় এলে ওই কক্ষে রুমানা থাকতেন। তার পাশের কক্ষটি রুমানার ছোট বোন নুসরাত সাবলেট নিয়েছেন। নুসরাত চট্টগ্রামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এলে নুসরাত তার সাবলেটের কক্ষে থাকতেন। সম্প্রতি আনসার সদর দপ্তরে একটি প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার জন্য বেশ কিছু দিন ধরে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার রাতের বেলায় তার পরিবারের লোকজন ফোনে না পেয়ে তার এক সহকর্মীকে ফোন দেন। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে মারা যান।

পুলিশ জানায়, রুমানার সাথে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মনোমালিন্য ছিল। প্রায় সময় মোবাইলে কথা কাটাকাটি হতো। এতে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। সে বিষয়টি তিনি তার সহকর্মীদেরও জানিয়েছিলেন।

ইত্তেফাক/এএএম