উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামারকে যৌন হয়রানির অভিযোগে যশোরের অভয়নগর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শরিফ মোহাম্মদ রুবেলকে গতকাল রবিবার ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় ক্লোজ করেছে। আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুসেইন খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করছে জেলা প্রশাসন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের ঐ নারী কর্মকর্তা মহাপরিচালক বরাবর কর্মস্থলে যৌন হয়রানি ও জীবননাশের হুমকির অভিযোগ করেন। অভিযোগের এক দিন পর প্রথম শ্রেণির ঐ নারী কর্মকর্তাকে মানিকগঞ্জের শিবালয়ে বদলি করা হয়। যশোরের জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান তিনটি বিষয়ই নিশ্চিত করে জানান, ইউএনএর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করার জন্য ‘নারী কর্মকর্তা’ এডিসিকে (শিক্ষা ও আইসিটি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর অভয়নগর উপজেলার ঐ সহকারী প্রোগ্রামার গত ২২ ডিসেম্বর কর্মস্থলে যৌন হয়রানি ও জীবননাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ৪ মার্চ তিনি অভয়নগর উপজলায় যোগদান করেন। শুরু থেকেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকেসহ অন্য সহকর্মীদের গালিগালাজ করতেন অকথ্য ভাষায়। এছাড়া অফিসের নির্ধারিত সময়ের পর গভীর রাত পর্যন্ত তাকে অফিসে থাকতে বাধ্য করেন। একপর্যায়ে তিনি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মাধ্যমে তাকে কুপ্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সর্বশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন। যে কারণে তিনি সম্মান ও আত্মমর্যাদা নিয়ে চাকরি করতে মহাপরিচালকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ঐ নারী কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রথমে তাদের ইঙ্গিত বুঝতে পারিনি। পরে তারা সরাসরি সঙ্গ দেবার প্রস্তাব দেয়।’ তিনি বলেন, ‘ডিপার্টমেন্ট আমাকে সেফ করার জন্য বদলি করছে। তবে আমি এর বিচার চাই। আমাকে এ বিষয়ে কথা না বলতে ও ফোন বন্ধ রাখতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। মেয়ের নিরাপত্তা চেয়ে আমার মা-বাবা থানায় জিডি করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু পুলিশ তা নেয়নি।’ তিনি আরো বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে জেনেছি, এর আগের স্টেশনে ইউএনও স্যারের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ছিল। আর পিআইও তো তার আগের স্টেশনে ইউএনওর মাথা ফাটিয়েছিলেন। তার দুই বছর বেতনও বন্ধ ছিল।’
এ বিষয়ে পিআইও শরিফ মোহাম্মদ রুবেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আমি কোনো কুপ্রস্তাব দিইনি। তিনি কাজ বুঝিয়ে দিতেন না। অফিস ফাঁকি দিতেন। আমি তাকে বোন বলে সম্বোধন করতাম। কোনো বাজে কথা বলিনি। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।’
ইউএনও নাজমুল হুসেইন খান বলেন, ‘সহকারী প্রোগ্রামার কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকেই অফিসে সময় দিতেন না। এ নিয়ে পিআইওর সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়েছে। এ সময় উভয়ে কিছু আপত্তিকর কথা বলেছে। কিন্তু সে (ভুক্তভোগী) অডিও এডিট করে অপপ্রচার করছে। কোনো প্রমাণ ছাড়াই আমাকে জড়িয়েও আপত্তিকর অভিযোগ করেছে।’
