সাব্বিরদের ম্লান করে রংপুরের জয়

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:৫২

ক্রিস গেইল, অ্যালেক্স হেলস, রিলি রুশো, এবি ডি ভিলিয়ার্স; রংপুর রাইডার্সের প্রথম চার জন ব্যাটসম্যানের নাম শুনলেই ভয় লাগার কথা। ডি ভিলিয়ার্স গতকালই যোগ হয়েছেন। কিন্তু এর আগে বাকি তারকারা জয় এনে দিতে পারছিলেন না।

গতকালও মনে হচ্ছিলো সাব্বির রহমান রুম্মন, তাসকিন আহমেদের নায়কোচিত পারফরম্যান্সে হেরে যাবে রংপুর। কিন্তু শেষ হাসিটা বর্তমান চ্যাম্পিয়নরাই হেসেছে। সমন্বিত এক ব্যাটিং পারফরম্যান্সের পর ফরহাদ রেজার নাটকীয় ব্যাটিংয়ে ৪ উইকেটের জয় পেয়েছে মাশরাফির দল।

আগে ব্যাট করা সিলেট সিক্সার্স সাব্বিরের ৮৫ রানে ভর করে ১৯৪ রান তুলেছিল ৪ উইকেটে। ৩ বল ও ৪ উইকেট হাতে রেখে এই রান পার করে ফেলে রংপুর।

টসে জিতে সিলেটকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল রংপুর। দ্বিতীয় ওভারেই ওপেনার লিটন তাসকে মাশরাফি ফেরানোর পর মনে হয়েছিল স্বাগতিকরা বিপদে পড়তে যাচ্ছে। লিটন ৮ বলে ১১ রান করে ফেরেন। কিন্তু এক প্রান্তে তুমুল আক্রমণ চালান সাব্বির রহমান। অন্য প্রান্তে আফিফ হোসেন ধ্রুব ও ডেভিড ওয়ার্নার ১৯ রান করে ফেরেন। এরপর নিকোলাস পুরান ও সাব্বির দিনের সেরা জুটিটা করেন।

পুরান ও সাব্বির ৮২ রান যোগ করেন। একেবারে ইনিংসের শেষ ওভারে এসে সাব্বির আউট হয়ে যান। তার আগে এবারের বিপিএলের তখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটা খেললেন। ৫১ বলে ৫টি চার ও ৬টি ছক্কায় ৮৫ রান করেন তিনি। অন্যদিকে পুরান ২৭ বলে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৪৭ রান করে অপরাজিত থাকেন।

সিলেটের ১৯৪ রানের জবাবে রংপুরের শুরুটা হলো যাচ্ছেতাই। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই কোনো রান না করে ফিরে এলেন গেইল। আর এরপরই তিন বিদেশি রংপুরকে খেলায় রাখার চেষ্টা করেন। হেলস ও রুশো ৬.৩ ওভারে ৬৩ রানের জুটি করেন। হেলস ২৪ বলে ৩৩ রান করে ফিরে আসেন। এরপর রুশোর সাথে যোগ দেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। দু’জনে যোগ করেন আরও ৬৩ রান।

এবার বিপিএলের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান রুশো শেষ পর্যন্ত তাসকিনের প্রথম শিকার হয়ে ফেরেন। তার আগে ৩৫ বলে ৬১ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তাসকিন এরপর ডি ভিলিয়ার্স, মিঠুন ও নাহিদুলের উইকেট নেন। এই মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মতো ম্যাচে ৪ উইকেট নিলেন তাসকিন।

ডি ভিলিয়ার্স ২১ বলে ৩৪ রান করে ফেরার পর মিঠুন ও নাহিদকেও দ্রুত ফেরান তাসকিন। ফলে তৈরি হয় রান ও বলের হিসেব। শেষ দুই ওভারে ২৪ রান দরকার ছিল। মাশরাফি ও ফরহাদ ১৯তম ওভারে ১৯ রান নেন। শেষ ওভারে দরকার ছিল ৫ রান। দ্বিতীয় বলে ৪ মেরে উত্তেজনা শেষ করে দেন ফরহাদ।