রাজধানীর মগবাজার টিঅ্যান্ডটি কলোনিতে এক প্রকৌশলীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তার নাম মীর আফতাবুল ইসলাম সুমন (৪৮)। সোমবার সকালে টিঅ্যান্ডটি কলোনির ভেতর একটি চারতলা বাড়ির সামনে থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত সমুন মগবাজার টিঅ্যান্ডটিতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে টিএন্ডটি কলোনীর এফ/৬/৮ নম্বর ভবনে থাকতেন। সকালে বাসা থেকে নামাজে বের হয়ে যান। এরপর ভবনের সামনে গলায় রশি প্যাঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে হাতিরঝিল থানা পুলিশ। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের কালীহাতি উপজেলার ইছাপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত মীর হায়দার আলী।
হাতিরঝিল থানার এসআই শরিফুল ইসলাম বলেন, পরিবারের কাছ থেকে আমরা জানতে পেরেছি সুমন ফজরের নামাজের জন্য বাসা থেকে বেরিয়ে যান। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে কলোনির ওই ভবনের চতুর্থ তলায় পানির ট্যাংকের সঙ্গে অর্ধেক রশি বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেলেও মৃতদেহ নিচে পাওয়া গেছে। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে তা এখনও রহস্যজনক। তার গলায় নাইলনের দড়ি প্যাঁচানো ছিল। দড়ির অপর প্রান্ত ভবনের চার তলার ছাদের পানির ট্যাংকের লোহার পাইপের সঙ্গে ঝুলানো ছিল। তবে ছাদে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টার পর দেহ দড়ি ছিঁড়ে নিচে পড়ে গেলে শরীরে বড় ধরনের আঘাতের চিহ্ন থাকত। তার গলায় কালো দাগ ও বিভিন্ন স্থানে ফোলা জখমের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। প্রতিবেদন হাতে আসলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।
আরো পড়ুন: ক্যারিয়ারে প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে খেলছেন না ফেদেরার
নিহতের চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভোরে নামায পড়তে বের হয়ে আর বাসায় ফেরেননি তিনি। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারি মৃত্যুর ঘটনা। তবে তাকে হত্যা করা হয়েছে না অন্য কোন কারণে তার মৃত্যু হয়েছে তা জানা নেই।
প্রায় দেড় মাস আগে স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে ঝগড়া হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, পরবর্তীতে ওই ব্যক্তির সঙ্গে তার আরো কোন সমস্যা তৈরি হয়েছিল কিনা সেটার খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও তার মৃত্যুর নেপথ্যে কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সুমনের ছোট ভাই মোহাম্মদ ইমন বলেন, তার কোন শত্রু ছিল কিনা সেটা জানা নেই। বিষয়টি পরিবারের সবাইকে আতঙ্কিত করেছে। এখনো আমরা বুঝতে পারছিনা। কি কারণে এ ঘটনা ঘটলো।
ইত্তেফাক/এএএম
