সেরা চারের আশা ছাড়ছে না রাজশাহী

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:০৪

স্পোর্টস রিপোর্টার

সিলেট পর্ব শেষে বাকি দলগুলোর আগে ঢাকায় চলে এসেছে রাজশাহী কিংস। গতকাল বিসিবি একাডেমিতে অনুশীলনও করেছে দলটি। রাজশাহীর জন্য বিপিএলের প্রথম ভাগ শেষ হয়ে গেছে। ছয় ম্যাচে তিনটি জয় মেহেদী হাসান মিরাজের দলের। সেরা চারে খেলতে অবশিষ্ট ছয় ম্যাচের অন্তত তিনটি ম্যাচ জিততে হবে রাজশাহীকে। দলটির অভিজ্ঞ ক্রিকেটার শাহরিয়ার নাফিস বলেছেন, সেরা চারে খেলতে আশাবাদী তিনি। দল হিসেবে উন্নতির ধারা ধরে রাখতে চান এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার।

গতকাল বিসিবি একাডেমিতে অনুশীলনের আগে প্লে-অফের সম্ভাবনা সম্পর্কে শাহরিয়ার নাফিস বলেছেন, ‘আমরা আশাবাদী। আমাদের পারফরম্যান্স দিনের পর দিন যেভাবে উন্নতি হচ্ছে, আমরা চেষ্টা করব পারফরম্যান্স আরও ভালো করার। যত বেশি সম্ভব ম্যাচ জেতার। আমাদের সবসময় প্রাথমিক টার্গেট ছিল প্লে-অফে কোয়ালিফাই করা। তারপরেরটুকু পরে দেখা যাবে।’

এবার বিপিএলে রাজশাহীর দলটা বেশ ভারসাম্যপূর্ণ বলা যায়। খুলনা টাইটান্সের বিপক্ষে একটি জয়, একটি হার রয়েছে তাদের। এর বাইরে মিরাজ বাহিনীকে বলা যায় জায়ান্ট কিলার। টুর্নামেন্টের অন্যতম দুই শক্তিধর দল ঢাকা ডায়নামাইটস ও রংপুর রাইডার্সকে হারিয়েছে রাজশাহী। ঢাকায় প্রথম পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে রংপুরকে হারিয়েছিল তারা ৫ রানে। সিলেটে ঢাকাকে ২০ রানে পরাজিত করে রাজশাহী।

শাহরিয়ার নাফিসের আশা, টুর্নামেন্টের দ্বিতীয়ভাগে তাদের পারফরম্যান্স আরও ভালো হবে। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘টি-২০ ক্রিকেটে খুব কঠিন। এখানে জেতাটা খুব কঠিন। জিতলে খুবই ভালো লাগে। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের দলে এমন কিছু পারফরমার আছে যারা যে কোনো সময় ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে সামর্থ্য রাখে। আমরা নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখছি। আমরা টুর্নামেন্টের প্রথমভাগে যে পারফরম্যান্স করেছি, আশা করি দ্বিতীয়ভাগে আরও ভালো করব।’

রাজশাহীর হয়ে দেশীয় ক্রিকেটাররাই পারফর্ম করছেন। ব্যাট হাতে বিদেশিদের কাছ থেকে বলার মতো পারফরম্যান্স আসছে না। শাহরিয়ার নাফিস বলছেন, দেশি-বিদেশি নয় দল হিসেবে পারফর্ম করতে চায় রাজশাহী। তিনি বলেছেন, ‘আমরা রাজশাহী কিংস বিশ্বাস করি, বিদেশি বা দেশি নয় আমরা সবাই রাজশাহী কিংসের প্লেয়ার। সবাই রাজশাহী কিংসের জন্য খেলছি। যেদিন যার ব্যাটে-বলে ভালো পারফর্ম করবে, তার ওপরই দায়িত্বটা পড়ে। আমরা আশা করি ১১ জন সবাই মিলে ভালো খেলব। এবং ভালো পারফরম্যান্স দিতে পারব সামনের দিকে।’

দেশীয়দের মধ্যে রান খরার কারণে একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন সৌম্য সরকার ও মুমিনুল হক। শেষ ম্যাচে ঢাকার বিপক্ষে একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার শাহরিয়ার নাফিস ও মার্শাল আইয়ুব। দ্বিতীয় উইকেটে ৭৫ রানের জুটি গড়েছিলেন তারা। তাদের জুটিতেই ১৩৬ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়েছিল রাজশাহী।

ম্যাচে ২৫ রান করা বাঁহাতি ব্যাটসম্যান শাহরিয়ার নাফিস বলেছেন, তাদের ভালো করার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার। তিনি বলেছেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি টেস্ট ক্রিকেট ও টি-২০ ক্রিকেট যদিও যোজন যোজন দূরে, তারপরও এখানে অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা সবসময় ভালো খেলে। তরুণরাও ভালো খেলে। তবে অভিজ্ঞতার একটা ভালো দাম আছে। যদি বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজ লিগ দেখেন, অভিজ্ঞ প্লেয়াররা কিন্তু দুর্দান্ত পারফর্ম করে আসছে।’