স্পোর্টস ডেস্ক
শিরোপাধারী বায়ার্ন মিউনিখ বুন্দেসলিগায় হফেনহেইমকে ৩-১ গোলে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান কমিয়েছে। দলের কোচ নিকো কোভাচ বায়ার্নকে ‘শিকারি’ আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন ডর্টমুন্ডকে তাড়া করতে মরিয়া তার দল।
পয়েন্ট তালিকার সাতে থাকা হফেনহেইমের মাঠে প্রথমার্ধেই দুইবার লক্ষ্যভেদ করেন বায়ার্ন মিডফিল্ডার লিওন গোরেত্স্কা। মাঝে স্বাগতিক দল ব্যবধান কমালেও ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে রবার্ট লেভান্ডোভস্কি গোল করলে ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা। বুন্দেসলিগায় এটি তাদের টানা ষষ্ঠ জয়।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বায়ার্ন কোচ জানান, ‘প্রথমার্ধে অসাধারণ খেলেছি আমরা। এটা আমাদের লক্ষ্য ছিল, যা আমরা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। ফলাফলটা ভালোই ছিল, মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধটা ভালোভাবেই শুরু করলাম আমরা এবং আমরা চাপ বাড়িয়ে দিয়েছি।’
বায়ার্নের নড়বড়ে শুরুর সুযোগ নিয়ে এই মৌসুমের একটা বড় সময় ধরে তালিকার শীর্ষে আছে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড। কোভাচ জানালেন পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান ফিরে পেতে মরিয়া তার দল। তিনি বলেন, ‘আমরা ‘শিকারি’, আমরা ডর্টমুন্ডকে তাড়া করতে চাই। আমরা তাদের তাড়া করে শিরোপায় নিজেদের ছাপ রাখতে চাই। মৌসুমের শেষে তালিকার শীর্ষে থাকাটাই মুখ্য বিষয়।’
নতুন বছরে নিজেদের প্রথম ম্যাচটি জয়ের পেছনে বড় অবদান লিওন গোরেত্স্কার। প্রতিপক্ষ হফেনহেইম জার্মান লিগে টানা দশ ম্যাচ ধরে হারেনি। এমন এক ম্যাচে বুন্দেসলিগায় জার্মান মিডফিল্ডারটির প্রথমবারের মতো জোড়া গোলে ভর করে প্রথমার্ধেই দুই গোলে এগিয়ে গিয়েছিল বায়ার্ন।
গোরেত্স্কার বলেন, ‘সব মিলিয়ে বেশ ভালো লড়াই করেছি আমরা। প্রথমার্ধে আমাদের পারফর্মেন্স ছিল অসাধারণ, আমরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছিলাম এবং যোগ্য দল হিসেবেই এগিয়ে গিয়েছিলাম।’
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে এক গোল শোধ করে ম্যাচে ফিরে এসেছিল হফেনহেইম। তবে গোরেত্স্কার মতে প্রতি আক্রমণগুলো কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের উত্তেজনা দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই শেষ করে দিতে পারত বায়ার্ন। জার্মান মিডফিল্ডারের ভাষায়, ‘দ্বিতীয়ার্ধে একটু উত্তেজনায় কেটেছিল বটে কিন্তু প্রতি আক্রমণগুলো কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচটা সেখানেই শেষ হয়ে যেতে পারত। যেভাবে হফেনহেইম ম্যাচে ফিরেছিল তাতে আমাদের মরিয়া চেষ্টা করতেই হতো। মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধটা ভালোভাবেই শুরু করতে চেয়েছিলাম আমরা এবং আজকে ভালো খেলাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’
কোচের কণ্ঠে ঝরে পড়া শিরোপার তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হলো তার কথাতেও। গোরেত্স্কার ভাষায়, ‘শিরোপা নিশ্চিত করাটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। মৌসুমের প্রথমার্ধ শেষে আমরা তাদের চেয়ে ছয় পয়েন্টে পিছিয়ে ছিলাম। কিন্তু আমরা এখন ‘শিকারি’।’
