বংশাই নদীতে নাব্যতা ফেরাতে ড্রেজিং

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:১২

লক্ষাধিক কৃষক ও জেলে পরিবারের ভাগ্যের উন্নয়ন এবং নদীর গতিপথ (নাব্যতা) ফিরিয়ে আনতে এবং জলপথে যোগাযোগ সুবিধাসহ নদী  দূষণমুক্ত করতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের অধীনে বংশাই নদীর প্রায় ২২ কি. মি. এলাকায় চলছে ড্রেজিং (খনন কাজ)।

প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২২ কোটি টাকা।  প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী খননের কাজ করছেন বলে টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছেন।  ২২ কি. মি. নদী খননের প্রায় ৭০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে বলে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বঙ্গ ড্রেজিং লি. এর কর্মকর্তা মো. শামসুল আলম পাশা এবং মো. জাকির হোসেন সরকার জানিয়েছেন।  আজ সোমবার বংশাই নদীর হাটুভাঙ্গা, গোড়াই সৈয়দুপর, তেলিপাড়া, শৈালপাড়া ও গোড়াইল ত্রিমোহনায় ঘুরে দেখা গেছে খনন কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। নদী ড্রেজিংয়ের ফলে এলাকার কৃষক ও জেলে পরিবার খুব খুশি।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড (অফিস) সূত্র জানায়, ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার (নতুন ধলেশ্বরী-পুংলী-বংশাই-তুরাগ-বুড়িগঙ্গা রিভার সিস্টেম) (২য় সংশোধিত)- শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বংশাই নদীতে ড্রেজিং কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে। টাঙ্গাইল, গাজীপুর, নরসিংদী ও ঢাকা জেলা অংশের যমুনা, ধলেশ্বরী, বংশী ও বুড়িগঙ্গা নদী প্রকল্পের বংশাই নদীর কালিয়াকৈর উপজেলার সূত্রাপুর হতে মির্জাপুর উপজেলার ফতেপুর পর্যন্ত ২১ দশমিক ৫০০শ কি. মি. এলাকায় নদী ড্রেজিং (খননের কাজ) চলছে। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় রাজধানী ঢাকার বঙ্গ ড্রেজিং কোম্পানি (লি.) চেইনেজ কি. মি. ৬৭ হতে চেইনেজ ৮৭ দশমিক ৫০০শ কি. মি. পর্যন্ত মোট ২১ দশমিক ৫০০শ কি. মি. বংশাই নদীর খনন কাজ করছেন।

খনন কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ কোটি ৪১ লাখ ২০ হাজার ৩০০শ টাকা। প্যাকেজ নং-ডাব্লিউ-১৬-বিআরআরপি সিআরডি-১৬(২০১৬-১৭)। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে কাজ শুরু হয়। নদীর খনন কাজের সময় তলদেশে প্রস্থ ৭২ মিটার, পার স্লাপিং ২৫ মিটার, গভীরতা ৪ মিটার হতে ৮ মিটার পর্যন্ত কাজ হচ্ছে বলে খনন কাজের কর্মকর্তাগণ জানিয়েছেন।  দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ফলে গত গত বছরের এপ্রিল থেকে ড্রের্জিং কাজ বন্ধ থাকে। চলতি বছরের গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে পুনরায় ড্রেজিং কাজ শুরু হয়েছে।

বংশাই নদীর কালিয়াকৈরের সুত্রাপুর হতে মির্জাপুর উপজেলার ফতেপুর অংশের আজগানা, হাঁটুভাঙ্গা, সৈয়দপুর, লতিফপুর, দেওহাটা, যুগিরকোপা, বান্দরমারা, গাড়াইল, গোড়াইল, চাকলেশ্বর ও হিলড়া আদাবাড়ি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, দ্রুত গতিতে নদীতে ড্রেজিং (খনন কাজ) চলছে।  লতিফপুর গ্রামের কৃষক মো.আবু হানিফা (৬২), আজগানা গ্রামের কৃষক মোস্তফা মিয়া (৫৬) ও হিলড়া আদাবাড়ি গ্রামের কৃষক মো. মজিদ মিয়া (৫৮) বলেন, ধলেশ্বরী ও যমুনা নদীর শাখা নদী মির্জাপুরের বংশাই।  যুগ যুগ ধরে নদীতে পলি পরে এলাকার কৃষকদের চাষাবাদ সমস্যা হচ্ছে। নদী ভাঙ্গনে অনেকেই হারিয়েছে ঘরবাড়ি, ক্ষতি হয়েছে রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ফসলী জমি। পলি পরে নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় জেলেরা নদীতে মাছ শিকার করতে পারছে  না। 

এছাড়া দখল ও দূষণের কবলে পরে পুরো নদীর গতিপথ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী নদী খননের উদ্যোগ নেওয়ায় তারা খুব আনন্দিত ও খুশি হয়েছেন। এখন থেকে স্থানীয় জেলেরা মাছ শিকার করতে পারবে, নদীতে বাঁধ দিয়ে চাষাবাদ করতে পারবে এবং নাব্যতা সংকট দেখা দিবে না ও দূষণের কবল থেকেও মুক্তি পাবেন বলে জানিয়েছেন। 

এ ব্যাপারে বঙ্গ ড্রেজিং কোম্পানি (লি.) কর্মকর্তা মো. শামসুল আলম পাশা, মো. জাকির হোসেন সরকার ও মো. কবির হোসেন বলেন, যমুনা ও ধলেশ্বরীর পানি প্রবাহ বুড়িগঙ্গা নদীতে ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পে বংশাই নদীতে ড্রেজিং (খনন কাজ) দ্রুত গতিতে হচ্ছে।  আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই খনন কাজ শেষ করা হবে।  ইতিমধ্যে খনন কাজের ৭০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।  পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাগণ নিয়মিত কাজ তদারকি করছেন বেলও তারা জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলমগীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের নদ-নদী এবং খাল-বিল ও হাওড়-বাওড় রক্ষার জন্য কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।  নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার লক্ষে এবং মানব বর্জ্য থেকে নদী দূষণমুক্ত করতে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছেন।  প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পে মির্জাপুরে প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে বংশাই নদীর ড্রেজিং (খনন কাজ) হচ্ছে।  খনন কাজ কাজ দ্রুত গতিতে চলছে । নদীর খনন কাজ শেষ হলে এর সুবিধা পাবেন এলাকার জনগণ এবং নদী পথে যোগাযোগ অতি সহজ হবে। পর্যায়ক্রমে বংশাই নদীর বিভিন্ন এলাকায় পুরো নদী খনন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ইত্তেফাক/এমআর