বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিয়ে 'ডাইভারসিটি টক' অনুষ্ঠিত

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮:১৭

দ্যা আর্থ সোসাইটির আয়োজনে এবং ডাইভারসিটি ফর পিস ও ইউএনডিপি বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘ডাইভারসিটি টকস’এর শেষ পর্ব। বেঙ্গল মিডিয়া করপোরেশন লিমিটেড (আরটিভি)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক রহমানের উপস্থাপনায় শনিবার রাত ৮টায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনের আলোচনার বিষয় ছিল 'কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান'। 

কোভিড-১৯ মহামারির এ সময়ে নিজেদের সুরক্ষা, জীবনমান ও টিকে থাকার যে তাগিদ  মানুষের মাঝে প্রতিফলিত হয়েছে এতে করে সমাজের এক শ্রেণির  মানুষ চরম অবহেলা ও দুঃখ কষ্টে তাদের দিন যাপন করছে। বিশেষ করে আমাদের পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠীরা হয়েছে নানা রকম বঞ্চনার স্বীকার। যদিও মহামারি এ ভাইরাস মানুষে-মানুষে দূরত্ব সৃষ্টি করেছে, কিন্তু আমাদের তরুণ সমাজ তাদের তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে ঠিকই এগিয়ে এসেছে। তরুণরা গরীব-অসহায় মানুষের সাহায্যের পাশাপাশি আমাদের বৈচিত্র্যময় সকল জনগোষ্ঠীর মাঝে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতেও এগিয়ে এসেছে। শুধুমাত্র তাই নয় , মহামারির এ সময়ে সমাজের সকল প্রকার ভেদাভেদ ও  বিভেদ দূর করে তরুণরা  কিভাবে শান্তি ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করার  জন্য  তাদের উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমেও এগিয়ে এসেছে, সে প্রসঙ্গে সম্মানিত অতিথিরা তাদের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।

বিশেষ এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক ওয়াসেকা আয়েশা খান, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. সাদেকুল আরেফিন, নিজেরা করি-এর সেক্রেটারি, মানবাধিকার কর্মী ও ওয়ান বিলিয়ন রাইজিং বাংলাদেশের কো-অর্ডিনেটর খুশি কবির, বাংলাদেশ আদিবাসী গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং এবং সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউমান ডেভেলপমেন্ট (এসইএইচডি)-এর গবেষক ও পরিচালক ফিলিপ গাইন। 

আলোচনার শুরুতেই আয়েশা খান বলেন, মহামারির এ সময়ে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মাঝে সাহায্য- সহযোগিতা পৌঁছে দিতে তরুণদের ভূমিকা ছিল অতুলনীয় এবং এক্ষেত্রে সরকার সব সময়ই সচেষ্ট ছিলেন। তিনি তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন- মহামারির সময়ে তিনি যখন তার নিজ এলাকা চট্টগ্রামে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তখন তরুণরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসেছে এবং শুধু তাই নয় মহামারির এ সময়ে ,  শহর কিংবা  গ্রামে খাদ্য সহায়তা থেকে শুরু করে কোভিড-১৯ আক্রান্ত মৃতদেহের সৎকারের জন্যও যে  তরুণরা এগিয়ে এসেছে তার কথাও উল্লেখ করেন। 

অধ্যাপক ডা. মো. সাদেকুল আরেফিন বলেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে যেসকল  উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সেসবই সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে ইতিমধ্যে পৌঁছে গিয়েছে তরুণদের সহায়তায় । তরুণরা মহামারির এ সময়ে  সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে কৃষকদের সাথে ধান কাটতেও এগিয়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, মহামারির এ সময়ে তরুণরা নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে  রেখে আম্ফান ,বন্যা ও নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও সকল মানুষের সাহায্যে এগিয়ে গিয়েছে। 

অনুষ্ঠানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পিছিয়ে পড়ার কথা উল্লেখ করে ফিলিপ গেইন বলেন, অন্যান্য সকল তরুণদের মত মহামারির এ সময়ে চা -বাগানে এবং বেদে সমাজে অবস্থিত তরুণরাও তাদের নিজ নিজ কমিউনিটির মানুষের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে। মূল ধারার তরুণদের পাশাপাশি পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠীর তরুণদের জন্যও ভবিষ্যতে উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা করা  এবং রাষ্ট্রেরও এক্ষেত্রে এগিয়ে আসা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

কোভিড-১৯  পরিস্থিতিতে আমাদের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মাঝে সব রকম সাহায্য ও সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তরুণরা কিভাবে এগিয়ে আসতে পারে সে বিষয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশ আদিবাসী গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং। তিনি বলেন, মহামারি পরবর্তী সময়ে আদিবাসী তরুণরাও যেন আর সকলের মত এগিয়ে থাকে সে উদ্দেশ্যে যেনও প্রায় ৫০০০ আদিবাসী তরুণ -তরুণীকে খণ্ডকালীন চাকরীর ব্যবস্থা করা হয়। তিনি আরও  বলেন- বৈচিত্র্য হল শক্তি ও  সৌন্দর্য এবং আমাদের সকলেরই উচিত এদের সাথে যোগাযোগ বাড়ানো । 

আলোচনার শেষ পর্যায়ে , মানবাধিকার কর্মী ও ওয়ান বিলিয়ন রাইজিং বাংলাদেশের কো-অর্ডিনেটর খুশি কবির বলেন আমাদের সকলেরই উচিত তরুণদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা।মহামারির এ সময়ে  তারা এগিয়ে এসেছে বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিকট এগিয়ে গিয়েছে। তাদের এ মহৎ উদ্দেশ্যকে আমাদের সকলেরই সাধুবাদ জানান উচিত বলে তিনি মনে করেন। 

তাছাড়া, বিশেষ এ আয়োজনে উপস্থিত সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ সর্বশেষ দর্শকদের নানা প্রশ্নের উত্তর প্রদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন বেঙ্গল মিডিয়া করপোরেশন লিমিটেড (আরটিভি)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক রহমানের।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি