মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ
জীবনের প্রথম জাতীয় প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক। অবিশ্বাস্য হলেও তা সত্য প্রমাণ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ জর্জিস আনোয়ার নাইম। মাত্র ১৮ বছর বয়সী এই ফাইটার বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের আয়োজনে ২৬তম জাতীয় কারাতের ৬৭ কেজি শ্রেণিতে (ফাইট) বাংলাদেশ আনসার টিমের হয়ে স্বর্ণপদক (প্রথম স্থান) অর্জন করেন।
বগুড়ার ধুনট উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের সন্তান মোহাম্মদ জর্জিস আনোয়ার নাইম বিকেএসপিতে ২০১২ সাল থেকে কারাতে শেখা শুরু করেন। বিকেএসপিতে দু’বার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েও জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ হয়নি নাইমের। নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী—যার কি না অভিনয়ে মগ্ন থাকার কথা তিনি জাতীয় কারাতে প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করেই প্রথম! ২১টি স্বর্ণের এই কারাতে প্রতিযোগিতায় নাইমের আনসার টিম ১৩টি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ৭টি ও বান্দরবান ১টি স্বর্ণপদক অর্জন করে। নাইমের স্বর্ণপদক অর্জনের মধ্য দিয়েই তার দলেরও বিজয় ধ্বনি বেজে উঠে। এতে টিমের সকলই বেশ খুশি। সবার মাঝে এই স্বর্ণপদকের অন্যরকম একটা কদর ছিল। মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে গত ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর ৩ দিনব্যাপী সারা দেশ থেকে সর্বমোট ৭৪টি দল জাতীয় কারাতে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।
অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে নাইম বলেন, ‘৩-৪ মাস আগে আমি যখন জানতে পারি ডিসেম্বরের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ ন্যাশনাল অনুষ্ঠিত হবে, সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের আনসার টিমের কোচ জসিম সেন্সির সঙ্গে কথা বলে, অতি দ্রুত ঢাকায় চলে আসি। লকডাউনের কারণে আমার ওজনও অনেক বেড়ে গিয়েছিল। ৭৩ কেজি ওজন ছিল। আমাকে দেখেই রমজান সেন্সি আমাকে অনেক বকা দেন। তারপর আমার বাসায় আসা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। আমাকে ক্লাবেই প্রাকটিস করাতেন, ক্লাবেই রেখে দিতেন। আবার মাঝে মাঝে সেন্সির বাইকে করে মিরপুর ইনডোরে নিয়ে ফিজিক্যাল প্রাকটিস করাতেন। অনেক অনেক কষ্ট করেছেন রমজান সেন্সি আমার জন্য। জসিম সেন্সি এবং রমজান সেন্সির কাছে আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। বিকেএসপির কোচ সোলায়মান সেন্সির কষ্টের মূল্যই হয়তো মহান আল্লাহ তায়ালা আমাকে দিয়েছেন। যখন পুরস্কার দেওয়ার জন্য আমার নাম ডাকা হলো তখন আমি সামনে গিয়ে দাঁড়াই এবং চোখ বন্ধ করে উপরে তাকিয়ে শুধু মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করছিলাম। মুন সেন্সি সহ সকল টিম মেম্বার, পরিবার এবং শিক্ষকদের ধন্যবাদ এবং সকলের কাছেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
কারাতে নিয়ে নিজের ভবিষ্যত পরিকল্পনা বিষয়ে জানতে চাইলে নাইম বলেন, ‘এই সাফল্যে আমি বলব না আমার স্বপ্ন এই বা সেই—শুধু কষ্ট করে যেতে চাই। আমি দেশকে ভালো কিছু উপহার দিতে চাই। এই লক্ষ্যে কাজ করে যেতে চাই। কারাতে আসলে আমার নেশা। এই নেশাকে কাজে লাগিয়ে আমি আমার সর্বোচ্চটা দিতে চাই। ভবিষ্যতে সকলের দোয়া, ভালোবাসা আর অনুপ্রেরণায় আরো ভালো কিছু করার চেষ্টা থাকবে।’
