মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
যারা ছবি আঁকতে পছন্দ করেন, তারা টুকটাক ছবি আঁকেন। আঁকিয়ে হতে চান। শিখতে চান ছবি আঁকার টেকনিক। তাদের জন্য রঙতুলি। একটি শিক্ষামূলক আঁকিয়ে প্রতিষ্ঠান। নতুনদের জন্য সহায়ক। সাহায্যকারী গ্রুপ। আস্থা আর ভালোবাসার গ্রুপ। হোক আর্ট উপাদানের সন্ধান কিংবা অন্যকিছু। আঁকার জন্য যতটা সম্ভব— ঠিক ততটাই সাপোর্ট দেয় রঙতুলি। গ্রুপে সাহায্য চেয়ে পোস্ট দিলে খুব দ্রুত সাহায্য মেলে। সদস্যরা খুব আন্তরিক। এসব কারণে খুব দ্রুত গ্রুপটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবর রঙতুলির প্রতিষ্ঠাতা নীরব নাহীয়ান মাত্র সাত জন ঁআঁকিয়েকে সঙ্গে নিয়ে ফেসবুক গ্রুপের যাত্রা শুরু করেন। যার নামকরণ করা হয় ‘রঙতুলি-the Kingdom of Art’।
বর্তমানে রঙতুলির আঁকিয়ের সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার। রঙতুলির নামকরণ করেন নিসা মাহজাবীন, লোগো ডিজাইনার বিজয় চন্দ্র বর্মন, সার্বিক পরিচালনার দায়িত্বে আছেন সাইফুল ইসলাম এবং অফলাইন ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টে আছেন সিমান্ত মিশু। অসংখ্য নতুন আঁকিয়ে রঙতুলির সহায়তায় আঁকাআঁকি ভালোভাবে রপ্ত করতে পেরেছেন। পরিচিত হয়েছেন বিভিন্ন মহলে। এ রকমই কয়েকজন হলেন— জাহিদ পারভেজ, তাবাসসুম শিফা, বোরহান, দেবজিত্, তাবেন্দা খান, ফারহিন, তিন্নি, কারিমা, কৌশিক, ইয়াসমিন, দিপ্ত, মুনা, কুলসুম, সাদিয়া, সাগর ও জান্নাত। একাধিক অনলাইন প্রতিযোগিতা, ফ্রি অনলাইন ক্লাস, ফ্রি ওয়ার্কশপ এবং আউটডোর আর্ট ক্যাম্প, সাপ্তাহিক, মাসিক ও দিবস ভিত্তিক আর্ট প্রতিযোগিতার আয়োজন করে গ্রুপটি। বিজয়ীদের পুরস্কৃৃত করা হয়। এদের অধিকাংশ সদস্য তরুণ। সময় বের করে তারা গ্রুপে অন্যদের সহযোগিতা করেন।
জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয় রঙতুলির প্রথম অফলাইন প্রোগ্রাম। সেই অনুষ্ঠানে ৩০ জন আঁকিয়ে উপস্থিত ছিলেন। এ বছর অক্টোবরে আয়োজন করা হয় ‘ইঙ্কটোবার’ প্রতিযোগিতা। গত ১৪ নভেম্বর রঙতুলির ৪র্থ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মিরপুর-২ এ আঁকিয়েদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রায় ৫০ জন আঁকিয়ে উপস্থিত ছিলেন। গ্রুপের সদস্যরা নিয়মিত পরস্পর মত বিনিময় করেন। একে অপরের খোঁজ-খবর নেন। এতদিন ফেসবুকে পরিচয় থাকলেও বাস্তবে এই মিলনমেলা তাদের উত্সাহ বাড়িয়ে দেয়। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিতরণ ও কেক কাটা হয়।
রঙতুলির প্রতিষ্ঠাতা জানান, ‘আমরা জানি না আমাদের সঙ্গে বড় বড় আর্টিস্ট কতজন আছেন। তবে আমাদের রঙতুলির মাধ্যমে যদি কেউ ছবি আঁকা শিখতে পারেন, সেখানেই আমাদেরঅর্জন।’
