আমরা করব জয়

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২০, ২০:৩২

নাসরুল্লাহ শাকুরি

সাবিকুন মিম পড়াশোনা করেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। একদিন ভার্সিটি থেকে বাসায় ফিরছিলেন। ফেরার পথে দেখা হয় এক শিশুর সঙ্গে। কথা বলে জানেন— মেয়েটির নাম শিলা। বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকে বেদে পল্লীর এক খুপড়িতে। বেদে সম্প্রদায়ের শিশুদের প্রতি এতদিন যে ভয় ছিল শিলার সঙ্গে কথা বলে নিমিষেই তা দূর হয় মিমের। অল্প সময়েই দু’জনের মধ্যে বেশ ভাব হয়। মিমের খাতা-কলম পেয়ে আঁকাআঁকি শুরু করে শিলা। পড়াশোনার প্রতি শিলার এত আগ্রহ দেখে নিজের নাম লেখা শিখিয়ে সেদিনের মতো বিদায় নেন মিম এবং বাসায় ফিরে বন্ধুদের সঙ্গে সেদিনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। প্লান করেন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কিছু একটা করার। শুরু হয় বেদে পল্লীর শিক্ষাবঞ্চিত একদল শিশু-কিশোর নিয়ে তারুণ্যদীপ্ত  স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমরা করব জয়’-এর পথচলা। 

গত শুক্রবার বিকেলে শরীয়তপুরের মুনশির হাটে কীর্তিনাশা নদীর পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, খোলা আকাশের নিচে মাদুরে বসে স্বরবর্ণের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে একদল শিশু। কেউ আদর্শ লিপি পড়ছে, কেউ-বা পেন্সিলে লিখছে। সেখানে পাঠদান করছিলেন তরুণ সজীব মোল্লা। তিনি বলেন, ‘ওরা অন্য দশটি শিশুর মতো নয়। অত্যন্ত মনোযোগী এবং ওদের এক পড়া একবারের বেশি বলতে হয় না।’  সংগঠনটি তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় যেসব সরঞ্জাম ব্যবহার করছে তা হলো— মাদুর, আদর্শলিপি, খাতা, কলম ও পেন্সিল। খোলা আকাশের নিচে সপ্তাহে চারদিন বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চলে কার্যক্রম। তবে রবিবার ও মঙ্গলবার কার্যক্রম চলে হিজড়াদের নিয়ে। শিশুদের মনোযোগ ধরে রাখতে প্রতিদিনই হালকা কিছু খাবার দেওয়া হয়। আয়োজন করা হয় খেলাধুলার। সংগঠনের প্রতিষ্ঠা সাবিকুন মিম বলেন, ‘আমরা বেদে পল্লীর শিশু ও  হিজড়াদেরকে পড়ালেখার পাশাপাশি সভ্য সমাজে খাপ খাইয়ে চলার নিয়মও শেখাই।’ সংগঠনটি চলে স্বেচ্ছাসেবকদের শ্রম ও অর্থায়নে। তাদের লক্ষ্য— প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা দিয়ে শিক্ষাবঞ্চিত এসব শিশুদের সরকারি কোনো স্কুলে ভর্তি করানো।