দেশটিতে ভ্যাকসিন গ্রহণ বাধ্যতামূলক নয়
বিবিসি
স্পেনে যারা করোনা ভাইরাসের টিকা নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করছে, কর্তৃপক্ষ তাদের নাম নিবন্ধন করছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, এই তথ্য তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে আদান-প্রদান করবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সালভাদর ইলা বলেছেন, এই তালিকা সাধারণ জনগণ এবং চাকরিদাতাদের কাছে উন্মুক্ত করা হবে না। তিনি বলেন, এই ভাইরাসকে পরাজিত করার উপায় হলো—‘আমাদের যত বেশি জনকে টিকা দেওয়া হবে ততই ভালো’।
করোনা ভাইরাসের কারণে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে স্পেন অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত একটি দেশ। দেশটিতে এখন ফাইজারের টিকা দেওয়া শুরু করেছে। গত সপ্তাহেই ইইউ সদস্য দেশগুলোর জন্য এই টিকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সোমবার লা সেক্সটা টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাত্কারে ইলা জোর দিয়ে বলেন, টিকাদান বাধ্যতামূলক নয়। তিনি বলেন, ‘যেটা করা হবে সেটা হলো একটা নিবন্ধন করা। আমরা আমাদের ইউরোপিয়ান পার্টনারের সঙ্গে শেয়ার করব যে, এসব মানুষদের টিকা নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কিন্তু, তারা সেটা গ্রহণ করেনি।’
তিনি আরো বলেন, ‘এটা জনসম্মুখে প্রকাশ করার জন্য কোনো তথ্য-প্রমাণ না। সবটাই করা হবে তথ্য রক্ষার প্রতি পূর্ণাঙ্গ শ্রদ্ধা রেখে। যাদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল এবং তারা সেটা যে কোনো কারণেই হোক ফিরিয়ে দিয়েছে, সেটা নিবন্ধনে উল্লেখ থাকবে। সোমবার তিনি আরো মন্তব্য করেন যারা টিকা নিতে চান তাদের সঙ্গে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করবে। যারা টিকা নিতে চান না আমরা মনে করি এটা একটা ভুল সিদ্ধান্ত কিন্তু তার পরেও এটা তাদের অধিকার। আমরা এই বিভ্রান্তি দূর করার চেষ্টা করছি। টিকা দেওয়ার ফলে জীবন রক্ষা হবে।’ উল্লেখ্য, সবশেষ হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান স্পেনের প্রায় ২৮ শতাংশ নাগরিকরা টিকা নিতে চান না। নভেম্বরে এটা ছিল ৪৭ শতাংশ।
গত সোমবারই স্পেনে কোভিড-১৯-এ মৃতের সংখ্যা ৫০ হাজার ছুঁয়েছে। মহামারির সময়ে দেশটিতে ১৮ লাখেরও বেশি মানুষের করোনা শনাক্ত হয়েছে। স্পেনে রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত দেশ জুড়ে কারফিউ চালু রয়েছে, যেটা চলবে মে মাসের শুরু পর্যন্ত। অনেক স্থানে মানুষকে শুধু কাজ করতে, ওষুধ কিনতে এবং বৃদ্ধ ও শিশুদের যত্ন নেওয়ার জন্য বের হতে দেওয়া হচ্ছে। আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষকে কারফিউর সময় পরিবর্তন এমনকি সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।
