অর্থনীতি

ক্ষতি কাটাতে মরিয়া বিশ্ব

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০২০, ২০:০৩

করোনা পুরো বিশ্ব অর্থনীতির চিত্র পালটে দিচ্ছে। উন্নত, উন্নয়নশীল সব দেশই মরিয়া হয়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে যাচ্ছে। ১৯৩০-এর দশকের ভয়াবহ মন্দার অভিজ্ঞতা ফের আসুক এটা কেউ চাইছে না। সেসময় বিশ্বের দেশগুলো নিজেদেরকে রক্ষা করতেই সচেষ্ট ছিল। কিন্তু বেসরকারি খাত এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় এগিয়ে আসেনি। ফলে এর মাশুল দিতে হয়েছে কয়েক দশক ধরে। কারণ মানুষের আয় কমে যাওয়ার প্রভাব পুরো অর্থনৈতিক অবস্থাকেই ধ্বংস করে দিয়েছিল। সারা বিশ্বেই চাহিদা কমে যায় ব্যাপকভাবে। সেসময়ের মহামন্দা সারা বিশ্বের ভূ-রাজনীতি পরিবর্তন হয়েছিল। এ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার বিশ্বের প্রায় সবদেশেই সচেষ্ট হয়েছে। কারণ অর্থনীতিকে সচল রাখতে হবে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ঠিক রাখতে হবে।

করোনার এই সময়ে বিশ্ব অর্থনীতি চরম ঝুঁকির মধ্যে। ২০২০ সালের শুরুতে অনেকের আশঙ্কা ছিল, এবারের বিশ্ব অর্থনীতির মন্দা যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বাণিজ্যযুদ্ধের হাত ধরেই আসবে। কিন্তু সব ধারণা উলটে দিয়েছে করোনা ভাইরাস। শেষ পর্যন্ত প্রভাব কতটা, তা এখনো নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। বিশ্ব অর্থনীতি এবছর মন্দায় প্রবেশ করেছে এটা মোটামুটি সবাই একমত। বলা হচ্ছে যে, স্বাস্থ্যঝুঁকির চেয়েও করোনা ভাইরাসের অর্থনৈতিক বিপদ আরো বেশি। কেননা এর কারণে যত মানুষ মারা যাবে, তার চেয়ে বেশি মানুষ দেউলিয়া হবে। চাকরি হারাবে বহুসংখ্যক মানুষ। প্রতিদিনই পরিস্থিতির বদল হচ্ছে।

করোনার প্রভাবে চলতি বছর শেষ নাগাদ বিশ্বে নতুন করে ১৫ কোটি মানুষ হত দরিদ্রের তালিকায় চলে আসবে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক। অক্টোবরে ‘পভার্টি অ্যান্ড শেয়ার প্রসপারিটি-২০২০’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্যের হার ৩ শতাংশে নামিয়ে আনার যে লক্ষ্য ছিল সেটি আর ধরে রাখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে নতুন করে যে দরিদ্র্য মানুষের হার বাড়বে সেই তালিকায় উদীয়মান দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ, ব্রাজিল, নাইজেরিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার নাম রয়েছে। করোনা ভাইরাসের প্রভাব দেখা গেছে শেয়ারবাজার, পর্যটনসহ বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় সব খাতে। যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনীতিবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চ বলছে, মন্দা হচ্ছে যখন সর্বক্ষেত্রেই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যায় এবং সেটা কয়েক মাসেরও বেশি সময় ধরে স্থায়ী হয়। গবেষকরা বলেছেন, ১৯৩০ সালে বিশ্বের মহামন্দার পর এত খারাপ সময় পার করেনি কোনো দেশ।

করোনা মোকাবিলায় যে প্রণোদনা ঘোষণা হয়েছে সেগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অক্টোবর পর্যন্ত জাপান জিডিপির ২১ দশমিক ১ শতাংশ, কানাডা ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়া ১৪ শতাংশ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৩ দশমিক ২ শতাংশ, তুরস্ক ১২ দশমিক ৮ শতাংশ, ব্রাজিল ১২ শতাংশ, জার্মানি ৮ দশমিক ৯ শতাংশ, চীন ৭ শতাংশ, ফ্রান্স ৬ শতাংশ, আর্জেন্টিনা ৬ শতাংশ, ইতালি ৪ দশমিক ৯ শতাংশ ঘোষণা করেছে। করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশে প্রথম পর্যায়ে ১ লাখ ১৩ হাজার ১১৭ কোটি টাকা প্রণোদনা ঘোষণা করেছে সরকার। গত নভেম্বরে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে যে প্রণোদান ঘোষণা করা হয়েছে সেটি উন্নয়নশীল অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম। প্রণোদনার আকারের দিক থেকে ৩১ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২২তম।