সামগ্রিক গ্রহাবস্থানের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য বছরটি শুভাশুভ মিশ্র সম্ভাবনাময়। বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও খাদ্যোত্পাদন বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থাও ভালো থাকবে বলে আশা করা যায়। নানাবিধ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জনজীবনে কিছুটা বিপর্যয়ের আশঙ্কা থাকলেও কৃষিজ উত্পাদন বৃদ্ধি পাবে। জনস্বাস্থ্যের জন্য বছরটি খুব একটা শুভ সম্ভাবনাময় নাও থাকতে পারে। রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধির যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা যায়। মন্ত্রিমণ্ডলে কোনো ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। প্রধানমন্ত্রীর শরীর-স্বাস্থ্য মোটামুটি ভালো থাকবে। বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া একাধিকবার অসুস্থ হতে পারেন। জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম রওশন এরশাদের শরীর-স্বাস্থ্য মোটামুটি ভালো থাকবে বলে আশা করা যায়। অতি বৃষ্টিপাতের জন্য অঞ্চলবিশেষে অকালবন্যা দেখা দিতে পারে। এ বছর একাধিকবার মৃদু বা মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে। জঙ্গিবাদী ও মৌলবাদী গোষ্ঠীর নানামুখী অপতত্পরতা সত্ত্বেও সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকবে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় পরিবর্তনের তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলসহ দেশে চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর কোনো কোনোটির কাজ এ বছর সুসম্পন্ন হতে পারে। সরকারের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা সম্পর্কে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন প্রয়োজন হতে পারে। এ বছর দুই বা ততোধিক বরেণ্য রাজনীতিক এবং চার বা ততোধিক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজসেবী বা বুদ্ধিজীবীর পরলোকগমনের আশঙ্কা রয়েছে। জল, স্থল ও অন্তরীক্ষে একাধিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির আশঙ্কা আছে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে কোনো ফলপ্রসূ সমাধান এ বছরও হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি দুষ্কর্মের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে। জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি পেতে পারে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও পরাশক্তিসমূহের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় থাকবে বলে আশা করা যায়। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকবে। ফলে জনমনে সরকার সম্পর্কে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হতে পারে। নানাবিধ প্রতিকূলতা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি জনগণের আস্থা অব্যাহত থাকবে। অন্যান্য দিক ভালো যাবে বলে আশা করা যায়।
