সুন্দর জীবনের প্রত্যাশা

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২১, ২২:০২

নতুন বছর মানে নতুন হিসাব-নিকাশ, নতুন সম্ভাবনা। বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে অভাবনীয় পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। করোনাকালে জীবনযাত্রা সাময়িক থমকে গেলেও অগ্রযাত্রা থামেনি। পদ্মা সেতুর মতো বৃহত্ উন্নয়ন-কাজ আশার সঞ্চার করে। তবে শিক্ষাব্যবস্থার ওপর সবচেয়ে বড় আঘাতটা এসেছে। বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ধরে রাখার পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষেত্রে আরো সাফল্য অর্জনে জোর দিতে হবে।

নারী ও শিশু নির্যাতনকারীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বাল্যবিয়ের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দিলে চলবে না। দেশের অগ্রগতির পথে সবচেয়ে বড় বাধা দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি। দুর্নীতি নির্মূলে জিরো টরালেন্স নীতি বাস্তবে কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য নিরসনে নিতে হবে বিশেষ ব্যবস্থা। সব ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। একটা গোষ্ঠী সবসময় মধ্যস্বত্বভোগী হিসেবে বাজার থেকে ফায়দা লুটের চেষ্টায় ব্যস্ত থাকে। এদের কারণে সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। তাই কালোবাজারি ও মজুদদারিদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি চলমান রাখতে হবে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। শ্রমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলা গড়া। তাই মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন সমাজ গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। শুধু ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর করলে হবে না, তাদেরকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে দেওয়াই হবে মূল সমাধান।

পরিবেশ বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম সারির দেশগুলোর একটি। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে ভুগছে বাংলাদেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের জীবনব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তাই ‘প্যারিস চুক্তি’ মেনে উন্নত দেশের সাহায্য-সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় ওপর জোর দিতে হবে। বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ, বর্জ্যদূষণ, পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণ রোধে গ্রহণ করতে হবে আধুনিক ও টেকসই ব্যবস্থা। নদ-নদীর দখল ও দূষণ রোধ তথা প্রকৃতি-পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। মনে রাখতে হবে, পরিবেশ রক্ষা হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ওপর ঝুঁকিও কমবে। প্রকৃতি-পরিবেশ রক্ষাসহ পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখা গেলে গড় আয়ু বাড়বে এবং উন্নয়ন টেকসই হবে।

কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি হলে উন্নয়ন টেকসই হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহের যথেষ্ট অবকাশ আছে! করোনাকালে বেকার তরুণের সংখ্যা আরো বেড়েছে। তরুণদের জীবনে এত বড় কর্মসংস্থানের সংকট এর আগে আসেনি। তরুণদের কর্মসংস্থানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার পথে সব বাধা দূর করার পাশাপাশি সহজ করতে হবে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রক্রিয়া। এছাড়া প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার পথ সুগম করতে হবে। করোনা মহামারির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইতিমধ্যে সেশনজট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তরুণ সমাজ দীর্ঘ সময় ধরে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর জন্য দাবি জানিয়ে আসছে। তাই চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানো একান্ত প্রয়োজন। চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরনের আবেদন ‘ফি’ উঠিয়ে দিতে হবে। তরুণ জনগোষ্ঠীর প্রত্যেককে তাদের মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজে লাগাতে পারলে দেশ বদলে যেতে বেশি সময় লাগবে না।

নতুন বছরে করোনাহীন সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রত্যাশা সবার।

ঢাকা