এনবিআরের কাছে আবাসন খাতের ৬ দাবি

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:১০

রিয়াদ হোসেন  

দেশের আবাসন খাতের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে ছয় দফা দাবি জানিয়েছে এ খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট এন্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে এনবিআর, উদ্যোক্তা ও গণপূর্ত বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি তিন দফা বৈঠক করে একটি খসড়া সুপারিশ তৈরি করা হয়েছে। শিগগিরই আরেকটি বৈঠকের পর সুপারিশ চূড়ান্ত করে তা অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এনবিআরের আয়কর ও ভ্যাট বিভাগের সমন্বয়ে বৈঠক করে আবাসন খাতের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। কমিটির সদস্য ও এনবিআরের প্রথম সচিব হাছান মুহাম্মদ তারেক রিকাবদার ইত্তেফাককে বলেন, শিগগিরই কমিটির আরেকটি বৈঠক হবে। এরপর আমরা সুপারিশ তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। এর ভিত্তিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাজেটের আগেই কার্যকর হতে পারে। 

ফ্ল্যাটের বিদ্যমান নিবন্ধন ফি অর্ধেকে নামিয়ে আনা, এ খাতের সেকেন্ডারি বাজার শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একই ফ্ল্যাট দ্বিতীয়, তৃতীয়বার বিক্রির ক্ষেত্রে নামমাত্র নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা, অর্থপাচার রোধে অপ্রদর্শিত আয় এ খাতে বিনিয়োগের বিধান সহজ করা ও অন্যান্য সংস্থার প্রশ্ন উত্থাপন থেকে দায়মুক্তি দেওয়া, সরবরাহকারীর ভ্যাট ও উেস কর সংগ্রহের দায়িত্ব থেকে আবাসন নির্মাতাদের অব্যাহতি দেওয়া, ডেভেলপারদের প্রদেয় আয়করকে ‘চূড়ান্ত কর দায়মুক্তি’ হিসেবে বিবেচনা করা এবং গেইন ট্যাক্স বিদ্যমান ১৫ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৪ শতাংশে নির্ধারণের দাবি জানানো হয় রিহ্যাবের পক্ষ থেকে।

সূত্র জানিয়েছে, আবাসনের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কর ও ভ্যাটহার কিছুটা কমানো ও প্রথমবারের পর ফ্ল্যাট বিক্রির নিবন্ধন ফি’সহ অন্যান্য কর কমিয়ে আনার বিষয়ে কমিটি একমত হয়েছে। এছাড়া সরবরাহকারীর ভ্যাট-ট্যাক্স সংগ্রহ,  গেইন ট্যাক্সসহ আরও কিছু বিষয়ে ইতিবাচক ও যৌক্তিক সুপারিশ করতে যাচ্ছে কমিটি। 

আলমগীর শামসুল আলামিন ইত্তেফাককে বলেন, এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে এ খাতের বিদ্যমান সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সহায়ক হবে। এ বিষয়টি আমরা এনবিআরকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছি। আশা করছি শিগগিরই এ খাতের জন্য ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে। 

রিহ্যাবের সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া ইত্তেফাককে বলেন, পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই এ খাতের শক্তিশালী সেকেন্ডারি বাজার গড়ে উঠেছে। একই বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয়বার বিক্রিতে নিবন্ধন ফিসহ সার্বিক ব্যয় এখানেও কমিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।

বর্তমানে আবাসন নিবন্ধন ফি সবমিলিয়ে ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ। এর মধ্যে গেইন ট্যাক্স চার শতাংশ, স্ট্যাম্প ফি তিন শতাংশ, নিবন্ধন ফি দুই শতাংশ,  স্থানীয় সরকার কর দুই শতাংশ, মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট দুই থেকে সাড়ে চার (অ্যাপার্টমেন্টের আকারভেদে) শতাংশ।

আবাসন প্রকল্প নির্মাণকালে বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহকারীর ভ্যাট ও উেস কর সংগ্রহের দায়িত্ব থেকে পাঁচ বছরের জন্য ডেভেলপারদের অব্যাহতি দেওয়ার দাবিও রয়েছে রিহ্যাবের। এছাড়া ডেভেলপার কর্তৃক আয়করকে ‘চূড়ান্ত কর দায়মুক্তি’ হিসেবে বিবেচনা করারও দাবি জানানো হয়েছে। এক্ষেত্রে আবাসিক ব্যবহারের জন্য প্রতি বর্গমিটারে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির জন্য যথাক্রমে ৫শ’ টাকা, সাড়ে চারশ’ টাকা ও তিনশ’ টাকা কর নির্ধারণ করার দাবি জানানো হয়েছে। বর্তমানে এ তিনটি শ্রেণিতে যথাক্রমে এক হাজার ছয়শ’, দেড় হাজার ও ছয়শ’ টাকা আয়কর প্রদান করতে হয়। অনাবাসিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে আলোচ্য তিন শ্রেণির জন্য যথাক্রমে এক হাজার, আটশ’ ও পাঁচশ’ টাকা আয়কর নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে। বর্তমানে এ তিনটি শ্রেণিতে যথাক্রমে সাড়ে ছয় হাজার, পাঁচ হাজার ও এক হাজার ছয়শ’ টাকা কর পরিশোধ করতে হচ্ছে ডেভেলপারদের।

এছাড়া গেইন ট্যাক্স বিদ্যমান ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে চার শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।