সাঁথিয়ায় নৌকা ও ধানের শীষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২১, ১২:২৪

পাবনার সাঁথিয়া পৌরসভা নির্বাচনের পোস্টার সাটানোকে কেন্দ্র করে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ৭ জন আহত হয়েছেন। পৌর বিএনপির কার্যালয় ভাংচুর করা হয়। এ ঘটনায় ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। 

জানা গেছে, সাঁথিয়া পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে শুক্রবার বিকেলে নির্বাচনি এলাকা কলাইচড়ায় ধানের শীষের পোস্টার সাটাতে যান বিএনপি প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম সিরাজের সমর্থকরা। এ সময় নৌকার সমর্থকরা ধানের শীষের পোস্টার সাটাতে বাধা দেন ও তাদের ওপর চড়াও হন। এতে ধানের শীষের সমর্থক ও প্রার্থীর ছোট ভাই মিরাজ মল্লিক (২৫) আহত হয়েছেন। তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরে ধানের শীষের সমর্থকরা পৌরসভার মহিলা মাদরাসার সামনে একত্রিত হয়ে নৌকার সমর্থকদের ওপরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে হামলা চালায়। এ সময় ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুনসুর আলম পিন্চুর ছেলে সাজিদ হাসান জিকোসহ ৬ জন গুরুতর আহত হয়। আহতদেরকে সাঁথিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাবনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রাত ৮ টার দিকে পাঠানো হয়। 

আহতরা হলেন-সাজিদ হাসান জিকো (২৮), ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সুমন(২৯), সুজানগর উপজেলার চরগোবিন্দপুর গ্রামের মোজাহারের ছেলে সোহান (২৯) সাব্বির (২৭) ও মিলন (২৬)। এ ঘটনার প্রতিবাদে সন্ধ্যা ৭ টার পরে সাঁথিয়া পৌর আওয়ামী লীগ একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। 

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই মেহেদী হাসান বাদী হয়ে সাঁথিয়া থানায় একটি মামলা রুজু করেন। মামলায় ৩১ জনকে আসামি ও প্রায় ৫০ জনকে অজ্ঞাত করে আসামি করা হয়। রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে। 

আটকৃতরা হলো- কালাম মল্লিক, শামীম হোসেন ও মিরাজুল ইসলাম। 

এদিকে সন্ধ্যার পরে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে পৌর বিএনপি অফিসের আসবাবপত্র ভাংচুর করেছে বলে দাবি করেন ধানের শীষের প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। তিনি আরও জানান, তার কর্মী সমর্থকরা পোস্টার সাটাতে গেলে তাতে প্রতিপক্ষ বাধা সৃষ্টি ও মারপিট করে। 

সাঁথিয়া পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মাহবুবুল আলম বাচ্চু জানান, ধানের শীষের প্রার্থী তার পরাজয় নিশ্চিত ভেবে নৌকার সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে চাচ্ছে। 

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় পৌর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

ইত্তেফাক/এএএম