২০২০ সালে এমন জাহাজ আনছে যুক্তরাষ্ট্র
ইন্ডিপেনডেন্ট
বিশ্বের সবচে শক্তিশালী পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন ৫৮৬ ফুট লম্বা বরফভেদী জাহাজ সাগরে ভাসিয়েছে রাশিয়া। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেরুপ্রদেশে সামরিক দখল নেওয়া এর একটা অন্যতম লক্ষ্য। ২০১৬ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গের বাল্টিক শিপইয়ার্ড থেকে এটি পরীক্ষামূলকভাবে উত্তর দিকে রওনা দেয়। বিশেষজ্ঞদের দাবি, রুশ সামরিক অস্ত্রভাণ্ডারকে আরও উন্নত করতেই এ জাহাজ এনেছে রাশিয়া। যদিও ২০২০ সালে এমন জাহাজ যুক্তরাষ্ট্র আনার কথা জানিয়েছে।
২০১৩ সালের নভেম্বর মাস থেকে রাশিয়ায় এ জাহাজ তৈরি করা শুরু হয়েছিল। জাহাজটি ৫৮৬ ফুট লম্বা, ১০০ ফুট প্রশস্ত, প্রায় ১০ ফুট পুরু, ১৩ ফুট গভীর বরফ ভেদ করতে সক্ষম। ২০১৭ সালের ১৭ আগস্ট উত্তর মেরুতে পৌঁছে রেকর্ডও গড়ে এ জাহাজটি। জাতীয় প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে এটি অন্যতম অস্ত্রও বলা যায়। আর্কটিকা নামের এ জাহাজে দুটি পানি পরিশোধনকারী ব্যবস্থা রয়েছে। ৭০ টন পানি বিশুদ্ধ করতে সক্ষম এটি। জাহাজটি একবারে ৩৩ হাজার ৫৪০ লিটার পানি সরাতেও সক্ষম। এ জাহাজটির প্লাবতা ‘ভ্যারিয়েবল’ বানাতে বাল্টিকের ওই কারখানায় ১০ হাজার টন ধাতব কাঠামো রয়েছে। যা এ সিরিজের পরবর্তী জাহাজ তৈরিতে কাজে লাগানো হবে। আর্কটিকার ক্ষেত্রে দুটি আরআইটিএম ক্ষমতাসম্পন্ন নিউক্লিয়ার পাওয়ার রিয়্যাক্টর রয়েছে। এটি মস্কোর কাছে পডোলস্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ২০১৬ সালের জুন মাসে। বসানো হয়েছে দুটি চুল্লিও।
আর্কটিকায় সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষমতাসম্পন্ন যমজ রিয়্যাক্টর বা পরমাণু চুল্লি রয়েছে। মেরুপ্রদেশে এর ফলে রুশ আধিপত্য আরও বাড়বে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। ৩২ কোটি ডলার এ জাহাজটি নির্মাণে খরচ হয়েছে। ৪০ বছর আয়ু এ আর্কটিকার। ২০ শতাংশের কম ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ জ্বালানি প্রতি সাত বছর অন্তত লাগবে এতে।
রুশ সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, এ সিরিজের দুটি বরফভেদী জাহাজ সাইবেরিয়া ও উরাল ২০১৯ সালের ডিসেম্বর ও ২০২০ সালের ডিসেম্বরে আনা হবে। মোট ৪০টি বরফভেদী জাহাজ রয়েছে রাশিয়ার। পরমাণু শক্তি চালিত বরফভেদী রুশ জাহাজের পাল্টা জাহাজ আনতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্রও। ২০২০ সালে নতুন একটি পরমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন বরফভেদী জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের আনার কথা রয়েছে। এ ছাড়া ২০১৮ সালের শেষের দিকে চীনও এমন একটি জাহাজ আনার কথা ঘোষণা করেছে।
