সমকালীন মান-সম্মান

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২১, ১৯:৪৯

 

আমরা আমাদের স্বভাবমতোই আপ্যায়ন করি, মিশুকে। কিন্তু আমাদের দোষটা হলো—আমরা অন্যকে সম্মান করতে গিয়ে নিজেদের সম্মানহানি করি। তারপর ভাবি, যথার্থ কাজ করেছি। যেমন ধরুন, আমাদের দেশে ঘুরতে আসা একজন বিদেশির সঙ্গে আমাদের কথা বলা দরকার। আমরা করব কী—প্রাণপণে বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব যে আমরা ইংরেজি কতটা ভালো জানি! অথচ দেখুন, বঙ্গবন্ধুর ‘আমার দেখা নয়াচীন’ বই থেকে উল্লেখ করছি,—‘চীনে অনেক লোকের সাথে আমার কথা হয়েছে, অনেকেই ইংরেজি জানেন, কিন্তু ইংরেজিতে কথা বলবেন না। দোভাষীর মাধ্যমে কথা বলবেন। আমরা নানকিং বিশ্ববিদ্যালয় দেখতে যাই। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ইংরেজি জানেন, কিন্তু আমাদের অভ্যর্থনা করলেন চীনা ভাষায়। দোভাষী আমাদের বুঝাইয়া দিলো। দেখলাম তিনি মাঝে মাঝে এবং আস্তে আস্তে তাকে ঠিক করে দিচ্ছেন যেখানে ইংরেজি ভুল হচ্ছে। একেই বলে জাতীয়তাবোধ। একেই বলে দেশের ও মাতৃভাষার উপরে দরদ।’

আসলে, আমরা নিজেদের সম্মান করতে জানি না, তাই অন্যেরা আমাদের সম্মান করে না। এই যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর নিজের কথাটা ইংরেজিতে বললেন না, তার মানে তো এই নয় যে তিনি মূর্খ। তিনিই আসলে ঠিক। দেশের মাটিতে মাতৃভাষায় কথা বলাটা কি কখনো অগৌরবের হতে পারে?

এদিকে, আমরা তো বেশ কয়েকজন অতিথি বিদেশির সঙ্গে দু’লাইন শুদ্ধ ইংরেজি বলে কিংবা ইংল্যান্ডে ঘুরতে গিয়ে বাঙালি গন্ধ মুছে পুরোপুরি ইংলিশ বনে গিয়ে কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ইংরেজি কবিতা আবৃত্তি করে সবার মধ্যে অনন্য হয়ে গর্ববোধ করে ফেলেছি। কী, করিনি?

ফজিলাত উন নেছা