রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টা ট্রাফিক সেবা

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:১৬

গভীর রাত্রে রাজধানীতে সড়ক ফাঁকা থাকায় বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে বেপরোয়া গতিতে। ইহাতে প্রায়শ ঘটে প্রাণহানির ঘটনা। এইসময় রাস্তায় কোনো ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় তাহা দেখিবারও কেহ থাকেন না। কয়েক বত্সর আগে এমনও খবর প্রকাশিত হয় যে, যাত্রাবাড়ী মোড়ে ভোর রাত্রের দিকে এক ব্যক্তি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হইবার পর তাহার লাশটি সরাইবার মতো কোনো লোকও পাওয়া যায় নাই। সেই লাশের ওপর দিয়া একের পর এক গাড়ি চলিয়া যাওয়ায় সকালে দেখা যায়, এক হূদয়বিদারক দৃশ্য! রাজধানীর অভিজাত এলাকায় একশ্রেণির উঠতি বয়সের তরুণ মদ্যপ অবস্থায় দ্রুত গতিতে প্রাইভেট কার চালাইবার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। ভোর রাত্রের দিকে গ্রাম-গঞ্জ হইতে রাজধানীতে আসা অনেক মানুষ ছিনতাইয়েরও শিকার হন। সুতরাং ঢাকায় রাত্রিবেলা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা দরকার, দরকার ট্রাফিক সেবার সমপ্রসারণও।

আশার কথা হইল, এই প্রথমবারের মতো দিনরাত্রি ২৪ ঘণ্টাই রাজধানী ঢাকাকে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনয়ন করা হইয়াছে। চলমান ট্রাফিক শৃঙ্খলা পক্ষের (১৫-৩১ জানুয়ারি) তৃতীয় দিন হইতেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হইয়াছে। সাধারণত ট্রাফিক পুলিশ ভোর সাড়ে ছয়টা হইতে রাত্র এগারোটা পর্যন্ত দুই শিফটে দায়িত্ব পালন করেন। কখনো কখনো বিশেষ কারণে তাহারা রাত্রি আড়াইটা পর্যন্তও দায়িত্ব পালন করিয়া থাকেন। এখন তাহারা তিন শিফটে কাজ করিতেছেন। এগারোটা হইতে ভোর ছয়টা পর্যন্ত ধরা হইতেছে নাইট শিফট। ইহাতে রাত্রের ঢাকার চিত্র কিছুটা হইলেও বদলাইয়া গিয়াছে। গভীর রাত্রেও ট্রাফিক পুলিশ রাস্তায় অভিযান চালানো অব্যাহত রাখায় বিশেষত যাহাদের এই সময় বাসায় ফিরিতে হয়, তাহাদের মধ্যে কিছুটা হইলেও স্বস্তি ও শান্তি ফিরিয়া আসিয়াছে। ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় ঢাকার মহাখালী, গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে প্রায়শ যানজট লাগিয়া থাকিত। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ২৫ সিগন্যাল ও মোড়ে রাত্রিবেলা সৃষ্টি হইত একই অবস্থা। তাই এইসকল পয়েন্টে সারারাত্র ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালনের সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। উল্লেখ্য, ট্রাফিক পুলিশগণ ট্রাফিকের উত্তর বিভাগের ৪, দক্ষিণ বিভাগের ১০, পূর্ব বিভাগের ৭ ও পশ্চিম বিভাগের ৪টি পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করিতেছেন। এইসকল পয়েন্টের প্রতিটিতে দায়িত্ব পালন করিতেছেন একজন সার্জেন্ট ও দুইজন কনস্টেবল । আর তাহাদের কাজের তদারকি ও খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য একজন সহকারী কমিশনার (এসি) ও একজন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) দায়িত্ব পালন করিয়া যাইতেছেন।

রাত্রিবেলা ঢাকা শহরের সড়ক অরক্ষিত থাকিতে পারে না। এই ব্যাপারে আমাদেরও সচেতন হইতে হইবে। শুধু রাজধানী ঢাকা নহে, দেশের কোথাও গভীর রাত্রে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু নাই। ফলে চালকরা আইন-কানুনের তোয়াক্কা করেন না। এই পরিস্থিতিরও উত্তরণ দরকার। এইজন্য পর্যায়ক্রমে সারাদেশে তথা সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা এলাকায় সার্বক্ষণিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা আবশ্যক। রাত্রে বেপরোয়া যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হইবে। মানুষ নির্ভয়ে চলাচল করিতে পারিবেন।