চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন প্রকল্পসমূহের দ্রুত বাস্তবায়ন, বন্দরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং সর্বোপরি সার্বিক কর্মকা্লে বিদেশি বিনিয়োগ সংগ্রহ চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন বছরের লক্ষ্য। বিশেষ করে বে-টার্মিনাল নির্মাণ ও পিসিটি’র অপারেশন কার্যক্রমে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) বাস্তবায়নই নতুন বছরে বন্দরের মূল চ্যালেঞ্জ। সে লক্ষ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরের অধীনে থাকা প্রকল্প বাস্তবায়ন বিনিয়োগ সংস্থান এবং অগ্রগতি নিয়ে আজ রবিবার ঢাকায় উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের পিসিটি, বে-টার্মিনাল, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর, এক্সপ্রেসওয়ে ধীরাশ্রম আইসিডি প্রকল্প, মীরসরাই বঙ্গবন্ধু অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ বিভিন্ন প্রকল্পের সাথে কানেক্টিভিটি এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা শাহ আমানত বিমান বন্দর সংলগ্ন পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) নির্মাণ কাজ নতুন বছরের শেষের দিকে সম্পন্ন করার টার্গেট ধরা হয়েছে। প্রথমে প্রকল্পটি প্রায় ১৮ শত কোটি টাকা ধরা হলেও বর্তমানে প্রকল্পের অপারেশন কাজের জন্য ইকুইপমেন্ট সমূহ বাদ দিয়ে অবকাঠামো নির্মাণ বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩শত কোটি টাকা। পিসিটিতে তিনটি কন্টেইনার জেটি এবং একটি ডলফিন বা অয়েল জেটি থাকছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরুর সাথে সাথে প্রকল্প শেষে এর অপারেশন কাজ যাতে দ্রুত চালু করা যায় সে লক্ষ্যেও কাজ চলছে। প্রকল্পের অপারেশন কাজ পিপিপি’র অধীনে করার জন্য ডকুমেন্ট তৈরিসহ বিদেশী বিভিন্ন বিনিয়োগকারীর সাথেও আলোচনা চলছে বলে জানা যায়। কারণ পিপিপি’র অধীনে অপারেশন কাজ বাস্তবায়নেও এক থেকে দেড় বছর সময় লেগে যাবে। তবে বন্দরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পিসিটি’র অবকাঠামো নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে চট্টগ্রাম বন্দর নিজস্ব উদ্যোগে প্রাথমিকভাবে তা চালু করে দেবে।
নতুন বছরে চট্টগ্রাম বন্দরের মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দীর্ঘ প্রতিক্ষীত বে-টার্মিনাল প্রকল্প। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরের উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকেও একাধিক মন্ত্রী, এমপি সহ বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বে-টার্মিনাল নির্মাণ কাজ দ্রুত শুরুর দাবি জানিয়েছেন। চট্টগ্রাম বন্দরের বঙ্গোপসাগর উপকূলীয় হালিশহর এলাকায় বে-টার্মিনাল নির্মাণ কাজের প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের জন্য ৬৭ একর বেসরকারি জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। আরো ৮০৭ একর জমি অধিগ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছে। সরকারি খাস জমির মূল্য পরিশোধ নিয়ে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে মতদ্বৈততা থাকায় তা দীর্ঘসূত্রিতায় পড়েছে বলে জানা যায়।
জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ৬৭ একর জমি ভরাট করা শুরু করে দিয়েছে। উক্ত জমিতে ডেলিভারি ইয়ার্ড নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। যার মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা সকল কন্টেইনার ওই ডেলিভারি ইয়ার্ডে চলে যাবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইতিমধ্যে জাইকার অর্থায়নে ও কারিগরি সহায়তায় মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। জাপান স্বল্প সুদে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের অর্থায়নে ইতিমধ্যে চুক্তিও সম্পন্ন করেছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দরের হ্যান্ডলিং কার্যক্রম দ্রুত ও সচল রাখার জন্য প্রায় ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছোট-বড় ১০৪টি ইকুইপমেন্ট কেনা এ বছরের মধ্যে সম্পন্ন করবে বলে জানা যায়।
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রেলপথে কন্টেইনার নেয়ার জন্য আলাদা এক্সপ্রেসওয়ে এবং ঢাকার অদূরে ধীরাশ্রম এলাকায় রেলের অন্য একটি কন্টেইনার ডিপো নির্মাণের ব্যাপারেও গত সপ্তাহে বৈঠক হয়েছে বলে জানা যায়। রেল কর্তৃপক্ষ ২০১৬ সালে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের জন্য কন্টেইনার কোম্পানী বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল) নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললেও তার অগ্রগতি তেমন একটা নেই বললেই চলে।
