সাত খুন মামলার রায়ে স্বাক্ষর দুই বিচারপতির

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ২২:২২

নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাক্ষর করেছেন হাইকোর্টের দুই বিচারপতি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের স্বাক্ষরের পরই রায়টি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়টি প্রকাশ করা হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

গত বছরের ২২ আগস্ট হাইকোর্ট সাত খুন মামলার রায় ঘোষণা করে। ওই রায়ে মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত লে. কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ, কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। যাবজ্জীবন দণ্ড দেওয়া হয় ১১ জনকে। নিম্ন আদালতের দেওয়া ২৬ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ও নথি পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট এ রায় দেয়। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ পূর্ণাঙ্গ রায়টি লিখেছেন। ওই রায়ের সঙ্গে একমত পোষণ করে বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারক মোস্তফা জামান ইসলাম নিজস্ব অভিমত দিয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রকাশিত এই রায়টি প্রায় আটশ পৃষ্ঠার। রায়ে দুই বিচারপতির স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট জাহিদ সারওয়ার কাজল।

২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ এ মামলায় ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। দণ্ডিতদের ২৫ জনই সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনী থেকে প্রেষণে র্যাব-১১ তে কর্মরত ছিলেন। মামলার পর তাদের নিজ নিজ বাহিনী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডের ফতুল্লার লামাপাড়া থেকে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণ করা হয়। তারপর তাদের ঠান্ডা মাথায় হত্যা করে লাশগুলো গুম করা হয়। তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের ছয়জনের এবং পরদিন আরেকজনের লাশ পাওয়া যায়। হত্যা ও গুমের ঘটনা প্রকাশের পরই নৃশংসতায় শিউরে উঠেছিল সারা দেশের মানুষ।