বৈধ ভিসা ও কাজের চুক্তির মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও বাহরাইনে যেতে পারছেন না বাংলাদেশি কর্মীরা। কোনো ঘোষণা ছাড়াই বাহরাইন সরকার কর্মীদের ভিসা বাতিল করছে। গত এক মাসে অন্তত দুইশো কর্মীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া হঠাত্ করে ভিসা বাতিল হওয়ায় অনেক কর্মী বাহরাইনের বিমানবন্দর থেকেই দেশে ফিরে এসেছে। বাহরাইন সরকারের এই পদক্ষেপে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে বাংলাদেশি কর্মীদের।
বাহরাইন বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। বর্তমানে দেশটিতে দুই লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। জানা গেছে, গত বছরের ৪ আগস্ট বাংলাদেশি এক মোয়াজ্জিনের হাতে বাইরাইনের নাগরিক এক ইমাম খুন হন। এ ঘটনায় ওই মোয়াজ্জিনের সর্বোচ্চ শাস্তি হয়েছে। কিন্তু বাহরাইন সরকার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে এবং বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
কিন্তু হঠাত্ করেই বাংলাদেশের বৈধ কর্মীদের ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করছে বাহরাইন কর্তৃপক্ষ। বাহরাইনের মানামাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) শেখ মোহাম্মদ তাওহিদুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, কোনো ঘোষণা ছাড়াই ছুটি কাটাতে বাংলাদেশে যাওয়া অনেক কর্মীর বৈধ ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করছে বাহরাইন কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে দুই শতাধিক বাংলাদেশি কর্মী দূতাবাসে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। অনেকেই পুরনো কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে আসছেন। কিন্তু বিমানবন্দর থেকেই আবারো ফেরত যেতে হচ্ছে তাদেরকে।
তিনি বলেন, বৈধ কর্মীদের ভিসা জটিলতা নিরসনের জন্য আমরা বাহরাইন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছি। কারণ এটি শ্রম আইনের লঙ্ঘন। বিষয়টি বাহরাইনের শ্রম ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় এবং শ্রম বাজার নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে উত্থাপন করা হয়েছে। ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট বাতিল হয়েছে এ রকম প্রায় দুইশো কর্মীর তালিকা আমরা দিয়েছি। বেশিরভাগ কর্মীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে তাদের ভিসার মেয়াদ এখনো এক থেকে দেড় বছর আছে। তারা বাহরাইনে তাদের গাড়ি, অর্থ এবং ব্যক্তিগত অনেক জিনিসপত্র রেখে গেছেন। যেগুলো এখন তারা ফিরে পাচ্ছে না। আশা করছি, বাহরাইন কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।
শ্রম কাউন্সেলর তাওহিদুল আরো বলেন, বাহরাইন সরকারের হিসাব অনুযায়ী ২ লাখ তিন হাজার বাংলাদেশি দেশটিতে কর্মরত রয়েছে। এর মধ্যে ৬৯ হাজারই অবৈধ বলে দেশটির স্বরাষ্ট্র ও শ্রম বিষয়ক মন্ত্রণালয় দূতাবাসকে জানিয়েছে। তিনি বলেন, ইমাম হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশিদের ভিন্ন চোখে দেখছে বাহরাইনের জনগণ। শ্রমবাজার খোলা ও ভিসা বাতিলের জটিলতা নিরসনে কিছু শর্ত দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। সব অবৈধ ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত বাংলাদেশি কর্মীদের তারা ফেরত পাঠাতে চায়। ধারণা করা হচ্ছে, এই বিষয়ে সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তারা নতুন করে ভিসা দেবে না এবং ধীরে ধীরে বাংলাদেশি কর্মীদের কাজের সুযোগ বন্ধ করে দেবে।
শ্রম বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, একের পর এক বড় বাজারগুলো হয় বন্ধ হচ্ছে, না হয় সংকুচিত হচ্ছে। এই অবস্থায় নতুন শ্রম বাজার সন্ধানের পাশাপাশি বাহরাইনের মতো শ্রমবাজার উন্মুক্ত রাখতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।
এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব রৌনক জাহান ইত্তেফাককে বলেন, হঠাত্ করে ভিসা বাতিলের বিষয়টি নিয়ে বাহরাইনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাস আলোচনা করছে। বাহরাইনের বাজার খুলতে ও কর্মীদের এসব সমস্যা দূর করতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
