রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ধীর গতিতে হতাশ জাতিসংঘ মহাসচিব

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:২৮

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে এখন পর্যন্ত মিয়ানমারের ভূমিকা অত্যন্ত ধীর গতির বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস। এ ক্ষেত্রে যতটা অগ্রগতি হওয়ার কথা ছিল তা না হওয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি। গত শুক্রবার নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দফতরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা বলেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত নিধন অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর চালানো হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। এ সব রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের একটি সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি। রোহিঙ্গারাও এখন মিয়ানমারে ফিরতে রাজি নয়। তারা বলছে, রাখাইনে ফিরে যেতে যথাযথ পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি।

সাংবাদিক সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট ও প্রত্যাবাসন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মহাসচিব গুতেরেস বলেন, আমার কথা সব সময়েই এক। আস্থা ও বিশ্বাসের পরিবেশ সৃষ্টি করা জরুরি। এটা শুধু ‘ফিজিক্যাল’ পুনর্গঠনের বিষয় নয়। এটা হলো সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে একটি পুনর্জাগরণের বিষয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, পরিস্থিতি যেমন হওয়ার কথা ছিল এখনো তেমন হয়নি। সবকিছু চলছে খুবই ধীর গতিতে। মিয়ানমারে যদি মূল সমস্যার সমাধান না হয়, তা হলে সহিংসতা ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। এমনটা আমরা সম্প্রতি দেখেছি। আমি মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্কের অগ্রগতিতে ঘাটতির বিষয়ে এবং এ সব মানুষের  দুর্ভোগের বিষয়ে ভীষণ রকম হতাশাগ্রস্ত।

রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা চাই এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে যাতে তারা স্বেচ্ছায় ফিরে যান। এ ক্ষেত্রে প্রথমেই অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুতদের সমস্যার সমাধান করতে হবে। এ সব মানুষের সমস্যার বিশ্বাসযোগ্য সমাধান দেওয়ার ফলেই ভবিষ্যত্ প্রত্যাবাসনের পথ সুগম হবে।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোকে

সংলাপে বসার আহ্বান

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে ফের সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। শুক্রবার মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেসের সাংবাদিক সম্মেলনে তার মুখপাত্র এ আহ্বান জানান। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যেন ইতিবাচক ফলাফল আনা যায়, সেজন্য অর্থবহ সংলাপ আয়োজন করতে এ পরামর্শ দিয়েছে জাতিসংঘ। পাশাপাশি প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও বাংলাদেশ বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার মাধ্যমে যে উদারতা দেখিয়েছে সেজন্য জাতিসংঘ কৃতজ্ঞ বলে জানানো হয়।

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র বলেন, এটা স্পষ্ট যে নির্বাচন ত্রুটিমুক্ত ছিল না। নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে জাতিসংঘ কোনো বিশেষ দূত বা দল পাঠাতে আগ্রহী কি-না, এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ম্যান্ডেট বা অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত এমন কোনো তদন্তে আমরা যেতে পারি না।