‘নারী অধিকার আদায়ে আপনার পথ অনুসরণ করব আমরা’

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২১, ২১:০৭

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি, নারীনেত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আয়শা খানম ২ জানুয়ারি শনিবার ভোরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি... রাজেউন)। নারীর মানবাধিকার আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা তিনি। ছাত্রাবস্থায় থাকতে তিনি বাষট্টির ছাত্র আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, মানবাধিকার ও প্রগতিশীল আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালে তিনি মহিলা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত হন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সাল থেকে তিনি সংগঠনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সাল থেকে ৬৮টি সংগঠনের মোর্চা সামাজিক প্রতিষ্ঠান কমিটির সচিবালয়ের নেতৃত্ব দেন আয়শা খানম। ১৯৯০-এর দশক থেকে ভিয়েনাতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় মানবাধিকার সম্মেলন, বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত চতুর্থ বিশ্ব নারী সম্মেলন, জেনেভায় অনুষ্ঠিত সিডও কমিটি এবং কমিশন অন দ্য স্ট্যাটাস অফ উইমেনের বিভিন্ন অধিবেশনসহ বিভিন্ন সম্মেলনে অংশ নেন। দেশের নারী অধিকার আদায়ে ছিলেন সর্বদাই সোচ্চার। র্দীঘদিন যারা তার সঙ্গে কাজ করেছেন তারা তাকে কাজের অভিভাবক মনে করতেন। সহকর্মীরা শ্রদ্ধা জানান প্রিয় অভিভাবককে।

 

ডা. মালেকা বানু

সাধারণ সম্পাদক

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ

আয়শা খানম শুধু জাতীয় পর্যায় নয়, বৈশ্বিক নারী আন্দোলনের বিভিন্ন দিক নিয়ে পড়াশুনা করতেন। নারী আন্দোলন মানে নারীর আন্দোলন নয়, এটা রাজনৈতিক আন্দোলন। এটা প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ করতেন। সামগ্রিকভাবে সবাইকে নিয়ে তিনি আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যেতেন। নারীর পক্ষে অনেক অর্জন সম্ভব হলেও তা ব্যাহত  হয়। সে ক্ষেত্রে তার রাগ ছিল, অভিমান ছিল। অনেক জানাশোনা থাকায় তিনি নারী অধিকার বিষয়ে টানা বলতে পারতেন।

 

ড. ফৌজিয়া মোসলেম

ভারপ্রাপ্ত সভাপতি

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ

নারীর অধিকার আদায়ে নিরলস পরিশ্রম করেছেন তিনি। নারী আন্দোলনের উচ্চতর ধারণা পোষণ করতেন তিনি। তার আদর্শকে অনুসরণ করে কাজের মাধ্যমে আমরা তাকে স্মরণ করব।

 

জাকিয়া কে হাসান

দীপ্ত ফাউন্ডেশন

তার কাছে আমরা নারী আন্দোলনের অনেক কিছু শিখেছি। আজ নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় অবিচল থাকার শপথ নিলাম। ছাত্রাবস্থা থেকে একসঙ্গে আন্দোলন করছি। ইউনিফরম ফ্যামিলি কোর্টের মাধ্যমে সব ধর্মের নারীর অধিকার আদায়ের জন্য সব সময় তিনি সোচ্চার ছিলেন। এখন আমরা ৬৮টি সংগঠনের মোর্চা সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির সচিবের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার হাত ধরে নারী আন্দোল শুরু করি, তার সঙ্গেই চলছি, আজ আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। আমাদের তার পথে এগিয়ে যেতে হবে।

 

শিরিন হক

নারীপক্ষ

একসঙ্গে কাজ করেছি। কাজের ক্ষেত্রে মতবিরোধ ছিল। কোনো দিন তা ব্যক্তি পর্যায় ছিল না। আমাদের অভিভাবক ছিলেন তিনি। মনে হচ্ছে মাথার ওপর থেকে ছাদ সরে গেছে।

 

রোকেয়া কবীর

নির্বাহী পরিচালক

বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি হিসেবে আয়শা খানম এ দেশের সব  নারী ও মানবাধিকার আন্দোলনে সামনের কাতারে থেকে লড়াই করে গেছেন। তার অসাধারণ বাগ্মিতা আন্দোলনের মাঠে থাকা কর্মীদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছে ও মনোবল দৃঢ় করেছে। এ দেশের নারী আন্দোলনের যা কিছু অর্জন, তাতে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ নারীর সমান অধিকারের পক্ষের একজন নিরাপস সৈনিককে হারাল।  

 

শাহীন আনাম

নির্বাহী পরিচালক

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন

আয়শা খানম আমার কাছে একজন সত্, সাহসী মানুষ ছিলেন। অন্যায়ের সঙ্গে তিনি কখোনোই আপস করেননি। নিজের জীবনকে তিনি নারীর রাজনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক অধিকার আদায়ে উত্সর্গ করেছেন। তিনি আমাদের রোল মডেল।