করোনা থমকে দিয়েছে গোটা পৃথিবী। কিন্তু মানুষের স্বপ্ন আর চেষ্টাকে থামাতে পারেনি। শত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এগিয়ে যাচ্ছে মানুষ। এগিয়ে নিচ্ছেন নিজেদের নানা উদ্যোগকে। তেমনি এক উদ্যোগ বহুমুখী পাটপণ্য ও হস্তশিল্পের পরিবেশবান্ধব পণ্যের প্রতিষ্ঠান ইউজুট।
প্লাস্টিক প্রতিনিয়ত মহামারির হয়ে মৃত্যুঘণ্টা বাজিয়ে চলছে আমাদের প্রাণ, প্রকৃতি, পরিবেশের। ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে প্লাস্টিকের সিঙ্গেল ইউজ। সেখানে দারুণ এক সমাধান পাট। পরিবেশবান্ধব আর টেকসই। এই পাটের নানা ধরনের পণ্যসামগ্রী তৈরি করছেন সূচনা হোসেন ও নাসিমুল আহসান। পাটের ব্যাগ, গৃহসজ্জার সামগ্রী, আয়না, টিস্যু হোল্ডার, টেবিল ম্যাট, ফুলদানিসহ নানা কিছু তৈরি হচ্ছে স্বামী-স্ত্রীর পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ ইউজুটে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নানা প্রান্তিক পাটপণ্য উদ্যোক্তা ও হস্তশিল্পীদের পণ্য নিয়েও কাজ চলছে।
অন্যান্য উদ্যোগের মতোই করোনার আগ্রাসী থাবা ইউজুটকে থমকে দিয়েছে। করোনার অভিঘাতে অফিস ও কারখানা ছেড়ে দিতে হয়েছে। এখন ঢাকার বাসাবোতে নিজেদের বাসাটাই যেন কারখানা হয়ে উঠেছে। বিক্রি থাকুক, না থাকুক নতুন নতুন পাটপণ্য তৈরির কাজ থেমে নেই। যদিও প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট ও গবেষণায় যে খরচ, সেটার জোগাড় করতেও এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সূচনা হোসেন বলেন, পাটের ব্যবহার বাড়াতে পারলে সেটা দেশের জন্য ভালো। প্রকৃতির জন্য ভালো। তাই পাট দিয়ে নিত্যনতুন পণ্য তৈরির চেষ্টা করে যাচ্ছি। দেশের মানুষ দেশের পণ্য ব্যবহার না করলে সেই দেশ কখনো আগায় না। আমরা আমাদের মতো করে পাটের পণ্য তৈরি করছি, সেগুলোকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করছি।
করোনায় নিজেদের অবস্থা ও আগামীর দিনগুলোর পরিকল্পনা সম্পর্কে সূচনা হোসেন বলেন, ‘করোনা আমাদেরকে আরো বেশি মানবিক হতে শিখিয়েছে। বিভিন্ন সেক্টরে মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। দেশে আমাদের মতো যারা প্রান্তিক উদ্যোক্তা আছেন, নানা ধরনের দেশীয় পণ্য নিয়ে কাজ করছেন, তাদের অনেকের পাশেই সরকার বা ব্যাংক দাঁড়ায়নি। কিন্তু আমরা বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আস্থা রাখতে চাই। বিশ্বাস করি, ক্রেতারা ছোট ছোট উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়াবেন। দেশের পণ্য ক্রয় করবেন। ইউজুটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নাসিমুল আহসান বলেন, পাট আমাদের কাছে কমিটমেন্ট। ২০১৬ সাল থেকে আমরা পাট নিয়ে নানা ধরনের কাজ করে আসছি। আমরা পাটকে জেতাতে চাই। বাংলাদেশকে জেতাতে চাই। পাটকে এগিয়ে নিতে চাই।
