দিনে দিনে কমে যাচ্ছে খেজুর গাছ। গ্রামীণ সড়কে এখন আর আগের মতো খেজুর গাছের সেই মনোমুগ্ধ দৃশ্য চোখে পড়ে না। অন্য দিকে শিশুরাও জানে না শীতের সকালের মিষ্টি খেজুরের রসের স্বাদ। আর রসের হাঁড়ির টুংটাং শব্দও শোনা যায় না।
সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা জানান, সরেজমিনে এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের পাশে কয়েকটি খেজুর গাছ থাকলেও তেমন রস হয় না বলে স্থানীয়রা জানান। উপজেলার জসিমবাজার থেকে ধলাগাছ সড়কে এবং ওয়াপদা এলাকায় গড়ে উঠেছে খেজুরের বাগান। সড়কে গড়ে তোলা বাগানের মালিক আনিছুল হক জানান, সড়কের দুই ধারে তার খেজুর গাছ রয়েছে ১২০টি। প্রতি বছর শীতের মৌসুমে এসব গাছ লিজ দেওয়া হয় গাছিদের কাছে। জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের বাগবাড়া থেকে আসা গাছি আবু বক্কর সিদ্দিক (৩২) জানান, প্রতি বছর শীত মৌসুমে বিভিন্ন এলাকায় খেজুর গাছ লিজ নেন। সাধারণত পৌষ, মাঘ ও ফাল্গুন মাসে রসের মৌসুম বলে মনে করেন তিনি। গ্রামীণ সড়কের সংস্কার কাজের কবলে পড়েও অনেক স্থানের খেজুর গাছ উজাড় হয়ে গেছে। এছাড়া একটা সময়ে ইটের ভাটায় অবাধে গাছ পোড়ানোর প্রবণতা ছিল।
আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা জানান, আলফাডাঙ্গায় শীতের সকালে এক দশক আগেও চোখে পড়ত রসের হাঁড়ি ও খেজুর গাছ কাটার সরঞ্জামসহ গাছির ব্যস্ততার দৃশ্য। সরেজমিনে উপজেলার পাঁচুড়িয়া গ্রামে মফিজুর মিয়া নামের এক গাছিকে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে দেখা যায়। পরে তার সঙ্গে কথা হলে জানান, তিনি ৩০ বছর বয়স থেকে খেজুর গাছ কাটা শুরু করেছেন। বর্তমানে তার বয়স ৬৫ বছর। তিনি আরো বলেন, ‘আগের মতো এলাকায় খেজুর গাছ নেই। কয়েকটি গাছ থেকে রস নিয়ে গুড় করে বাজারে বিক্রি করি। শীত মৌসুমের পরে বছরের অন্য সময় নদীতে মাছ ধরি।’ উপজেলার সদর ইউনিয়নের জাটিগ্রামের বাসিন্দা মালেক থান্দার জানান, এলাকায় আগের মতো খেজুর গাছ নেই বলে ৮/৯ বছর তিনি এই পেশা পরিবর্তন করে কৃষি কাজ করছেন।
আলফাডাঙ্গা উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম আহাদুল হাসান আহাদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘খেজুরের রস দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে। বেশ কয়েক বছর খেজুর রসের দেখা পেলাম না।’ আলফাডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিপন প্রসাদ সাহা বলেন, ‘আমাদের অসচেতনতার কারণে আজ অনেকটাই বিলুপ্তির পথে খেজুর গাছ। খেজুর গাছের এই সংকট নিরসনে বেশি করে খেজুরের বীজ বপন করতে হবে।’
