হাসপাতাল চত্বরে গাছের নিচে সন্তান প্রসব

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৩০

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে গাছের নিচে বাচ্চা প্রসবের ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রীনা বেগম (৩০) নামের এক প্রসূতিকে হাসপাতাল থেকে বের করে দিলে তিনি হাসপাতাল চত্বরের ইউক্যালিপটাস গাছের নিচে বসে পড়েন। সেখানেই তার ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। গতকাল শনিবার দুপুরে এ ঘটনাটি ঘটে।

ঘটনাটি ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়লে উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের টনক নড়ে। এ ঘটনায় হাসপাতালের মিডওয়াইফ নার্স শাবানা বেগমকে শোকজ করা হয় এবং ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়নের বালাভিড় গোয়ালপাড়া এলাকার জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী রীনা বেগমের শুক্রবার গভীর রাতে প্রসব বেদনা ওঠে। শনিবার সকালে তাকে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে পরিবারের লোকজন। রীনার প্রথম সন্তান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম দেওয়ার কথা শুনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে শনিবার দুপুরে ছাড়পত্র দিয়ে পঞ্চগড় অথবা ঠাকুরগাঁওয়ে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেয়। ছাড়পত্র দেওয়ার পরও ওই রোগী হাসপাতাল ত্যাগ না করায় নার্স শাবানা বেগম তাদের বেড ছেড়ে দিতে চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু স্বামী হাসপাতালে ফিরে না আসায় তারা সেখানে অপেক্ষা করছিল। একাধিকবার চাপ দেওয়ায় বাধ্য হয়ে ননদ রেজিনা রীনাকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে আসেন। এ সময় তারা ব্যাগ বস্তা নিয়ে হাসপাতাল চত্বরের ইউক্যালিপটাস গাছের নিচে আসলে পুনরায় রীনা ব্যথা অনুভব করতে থাকেন। এ সময় রেজিনা তাকে ওই গাছের নিচে বসিয়ে দিলে সেখানেই একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে হাসপাতালের পরিচ্ছন্ন কর্মী সোহাগী এসে বাচ্চার নাড়ি কেটে প্রসূতি ও বাচ্চাকে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে যান। ততক্ষণে স্থানীয়রা ছবি তুলে ও ভিডিও করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে বিষয়টি ভাইরাল ও টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়। এ ঘটনায় রোগীর লোকজন ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাংবাদিক, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. আফরোজা বেগম রীনা ও বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহমুদ হাসান ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি শুনে তাত্ক্ষণিক ওই রোগীকে দুই হাজার টাকা অর্থ সহায়তা দেন। ওই প্রসূতির পরিবারসহ স্থানীয়রা দোষীদের বিচার দাবি করেছেন।

প্রসূতি রীনা বেগম বলেন, ছাড়পত্র দেওয়ার পর আমি আমার স্বামীর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু নার্স শাবানা আমাকে ও আমার ননদকে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য করে। নিরুপায় হয়ে আমি হাসপাতালের বাইরে একটি গাছের নিচে আশ্রয় নেই। সেখানেই আমার সন্তান প্রসব হয়।

রীনা বেগমের স্বামী জাহিদুল ইসলাম জানান, আমার অনুপস্থিতিতে তাদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া ঠিক হয়নি। আমাদের সাথে যে আচরণ করা হয়েছে তা অমানবিক। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানান তিনি।

বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এসআইএম রাজিউল করিম রাজু জানান, ওই মিডওয়াইফ নার্স সাবানা বেগমকে শোকজ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার কারণ জানতে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. জাহিদ হাসানকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মিডওয়াইফ নার্স শাবানা বেগম বলেন, রোগীর অবস্থা বিবেচনা করে আমি তাদের অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। উল্লেখ্য, রীনা বেগমের এটি তৃতীয় সন্তান। প্রথম সন্তান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হলেও দ্বিতীয় সন্তান স্বাভাবিকভাবে হয়েছিল।