অনেক হয়েছে ‘আচ্ছে দিন’ বিজেপিকে বাদ দিন

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৪

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলে-ছেন,‘অনেক হয়েছে আচ্ছে দিন। বিজেপিকে বাদ দিন। বিজেপির শেষের শুরু হয়ে গেছে। মোদী সরকারের এক্সপায়ারি ডেট এসে গেছে। জোটের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা ভোটের পর ঠিক হবে। এ নিয়ে ওদের ভাবতে হবে না।’ শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ‘?ইউনাইটেড ইন্ডিয়া’? শীর্ষক জনসভায় এভাবেই বিজেপিকে নিশানা করলেন মমতা ব্যানার্জি।

তৃণমূল কংগ্রেস আয়োজিত বিজেপি বিরোধী জোটের এই সভায় দিলি­র প্রধানমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়া, কাশ্মীরের দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল­াহ ও ওমর আবদুল­াুসহ ভারতের ২৩টি রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন দুই বিজেপি নেতা ভারতের সাবেক অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিনহা ও শত্রুঘ্ন সিনহা।

সভায় মমতা ব্যানার্জি আরও বলেন, ‘সব রাজ্যেই বিজেপি খারাপ ফল করবে। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি কোন আসন পাবে না। রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্রেও অবস্থা খারাপ। তাহলে বিজেপি সরকার করবে কি করে?? এই সভা থেকে ভারতের স্বাধীনতার দ্বিতীয় লড়াই শুরু হল।’ ভিড়ে ঠাসা জনসভায় মমতা বলেন, ‘?পাকিস্তান ৭০ বছরে যা পারে এই বিজেপি সরকার তা ৪ বছরে করে দিয়েছে। ওরা ইতিহাস, ভূগোল, সংবিধান সব বদলে দিয়েছে। এনআরসির নামে মানুষের ওপর অত্যাচার করছে। আমাদের অনেক নেতা আছে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার। কে প্রধানমন্ত্রী হবেন তা ভোটের পর ঠিক করা হবে।’ পাশাপাশি মমতার মন্তব্য, ‘ওরা নিজের দলেরই রাজনাথ সিং, সুষমা স্বরাজকে সম্মান দেয় না। ওরা মানুষকে কি সম্মান দেবে।’

মহারাষ্ট্রের এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার বলেন, ‘?মমতা ব্যানার্জিকে ধন্যবাদ? যেভাবে আমরা একজোট হয়েছি তাতে আশা বেড়ে গেছে? বিজেপি পাঁচ বছর ধরে দেশবাসীকে ধোঁকা দিয়েছে? সংবিধানের উপর হামলা হচ্ছে? দেশের নানা স্বশাসিত সংস্থার উপর আক্রমণ হচ্ছে? কৃষকরা আত্মহত্যা করছে? যারা এটা করেছে তাদের দূর করতে হবে?’

সভায় বক্তব্য রাখেন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী, আসামের বদরুল আজমল, কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি, বহুজন সমাজ পার্টির প্রতিনিধি সতীশ মিশ্র, সমাজবাদী পার্টি নেতা এবং উত্তরপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব, রাষ্ট্রীয় জনতা দল নেতা এবং লালুপ্রসাদ যাদবের ছেলে তেজস্বী যাদব, তামিলনাডুর এমকে স্ট্যালিন প্রমুখ।

উঠে এল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথাঃ সভা তৃণমূলের। সেখানে উঠে এল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা। মমতা বলেন, ‘ব্রিগেড বহু ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী। মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশের বিজয়ের উত্সব হয়েছিল এখানে। বঙ্গবন্ধু ও ইন্দিরা গান্ধী এসেছিলেন। রাজীব গান্ধীর সরকার পতনের ডাক এই ব্রিগেড থেকেই দিয়েছিলেন জ্যোতি বসু। এবার আমরা ডাক দিলাম মোদির সরকার পতনের।

সোনিয়ার বার্তাঃ সভায় আসতে না পারলেও একজোট হওয়ার বার্তা পাঠিয়েছেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। তিনি বলেছেন, ‘দেশ সংকটে। জনতা যন্ত্রণায় রয়েছেন। আসন্ন লোকসভা নির্বাচন অন্যবারের মতো নয়। এটা দেশের গণতন্ত্র ফেরানোর লড়াই। আমি এই সভার সাফল্য কামনা করি। সোনিয়া আসতে না পারলেও এসেছিলেন কংগ্রেস নেতা তথা ভারতের লোকসভার বিরোধী দলনেতা মলি­কার্জুন খড়গে। অভিষেক মনু সিংভি।

ব্যালটের দাবিঃ ইলেক্ট্রনিক ভোটযন্ত্রে ভোট দুর্নীতি হয়। তাই ইভিএমের পরিবর্তে ফের পুরনো পথে ব্যালট পেপারে ভোটের দাবি জানালেন বিজেপি বিরোধী জোটের নেতারা। তাঁদের দাবি ইলেক্ট্রনিক ভোট যন্ত্র ব্যবহার করে ভোট কারচুপি করে বিজেপি।