নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনার মামলায় জামিন পেয়েছেন মোজাম্মেল হোসেন সোহাগ (৪৮)। রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের শুনানি গ্রহণ করে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রবিবার তার জামিন মঞ্জুর করে। এর আগে হাইকোর্ট মামলার এজাহার ও চার্জশিট পর্যালোচনা করেন। ঐ পর্যালোচনা শেষে আদালত জামিনের সিদ্ধান্ত দেয়। সোহাগ বেগমগঞ্জের একলাছপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
আদালতে আসামি পক্ষে আইনজীবী অজি উল্লাহ এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী শুনানি করেন। শুনানিতে অজি উল্লাহ বলেন, সোহাগ মেম্বার একজন জনপ্রতিনিধি। এজাহারে তার নাম না থাকলেও অভিযোগপত্রে তাকে আসামি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে জনপ্রতিনিধি হিসেবে আইনগত দায়িত্ব পালনের ব্যর্থতার। দণ্ডবিধির ২০২ ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোপত্র দেওয়া হয়েছে। অভিযোগপত্রে তিনি ১৪ নম্বর আসামি। দণ্ডবিধির ২০২ ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি ছয় মাস। তিন মাস ধরে তিনি কারাগারে আছেন।
জামিনের বিরোধিতা করে ডি এ জি বাপ্পী বলেন, নোয়াখালীতে ঐ নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনা বিশ্ব অবলোকন করেছে। ঐ ঘটনা ১৯৭১ সালের নির্যাতনের ঘটনাকেও হার মানিয়েছে। শুনানি শেষে হাইকোর্ট জামিন মঞ্জুরের আদেশ দেয়।
গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাছপুর ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে ঘরে ঢুকে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন, ধর্ষণের চেষ্টা ও ভিডিও ধারণ করে স্থানীয় একদল সন্ত্রাসী। গত ৪ অক্টোবর ঐ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এর পরই আসামি গ্রেফতারে মাঠে নামে পুলিশ। উচ্চ আদালত থেকে ঐ নারীকে নিরাপত্তা দিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়। গত মাসে এ মামলায় সন্ত্রাসী দেলোয়ার হোসেন দেলুসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেয় পিবিআই।
